তাহিরপুরে ২ হাজার একর জমি ১৫ বছর অনাবাদি

আপডেট : ০৮ মে ২০১৪, ২১:২২
জমি থাকতেও দুই গেরামের গৃহস্থের উগারে (গোলায়) ধান নেই, গোয়ালে গরু নেই, থাকার মত ঘর নেই, যাতায়াতের জন্য বাহারি নৌকা নেই, এখন আমরা নিঃস্ব-এ কথাগুলো বলছিলেন তাহিরপুর উপজেলার ভাইমারা হাওর এলাকার গৃহবধূ তারুবালা। জানা যায়, জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে তাহিরপুর উপজেলার ‘ভাইমারা’ হাওরটি ১৯৯৫ সাল থেকে পানিতে তলিয়ে থাকে। এতে অনাবাদি হয়ে পড়ে হাওরটির দুই হাজার একর জমি। ফলে হাওর এলাকার চার শতাধিক কৃষক এখন প্রায় নিঃস্ব। এ সংকট নিরসনে কৃষকেরা হাওরটিতে একটি বেড়িবাঁধ দেয়ার দাবি করে আসছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিত্ সরকার বলেন, শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের কানমুইয়া হাওরের পশ্চিমপাড়ের খলারটোব থেকে বিশারা গ্রামের কাছিমধরা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে দুই হাজার একর জমি পুনরায় চাষাবাদ করা সম্ভব। এতে চার শতাধিক কৃষক ফিরে পাবে সচ্ছলতা। সমাজকর্মী মানিক বলেন, ১০ বছর আগে লিখিতভাবে ভাইমারা হাওরে বেড়িবাঁধ দেয়ার কথা জানিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। দুর্গম ও অবহেলিত এ এলাকার সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই। শিক্ষক আবদুর রহমান (অব.) জানান, ২০ বছর আগেও গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোতে দোতলা টিনের ঘর ছিল, গোয়াল ভরা গরু ছিল এবং বর্ষায় যাতায়াতে ছিল বাহারি নৌকা। কিন্তু ভাইমারা হাওরের জমি চাষ করতে না পেরে সবকিছু বিক্রি করে এখনও পরিবারগুলো নিঃস্ব। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ‘ভাইমারা হাওরের জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে সরেজমিনে দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’ কৃষি অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক আবুল হাসেম বলেন, হাওরটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।