স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুলের কাছে ৪-০ গোলে হেরে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের দুঃস্বপ্ন এখনো পোড়ায় বার্সেলোনাকে। সমপ্রতি দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি জানালেন, সে ক্ষত এখনো সারিয়ে উঠতে পারেনি তার দল।
বার্সেলোনা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ৩-০ হারিয়ে চার বছর পর প্রথম ইউরোপীয় ফাইনালের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফিরতি লেগে ৪-০ গোলে জিতে সে কাতালানদের আশায় পানি ঢালে কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দল।
সে হারটির পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মেসি জানালেন, সে হার সিন্দাবাদের ভূতের মতো দলের ঘাড়ে চেপে বসেছে। তিনি বলেন, ‘লিভারপুলের বিপক্ষে খেলাটা সত্যিই দারুণ এক আঘাত ছিল দলের জন্য। চলতি বছরে এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। এখান থেকে বের হওয়াটা সত্যিই খুব কঠিন।’
অ্যানফিল্ডের সেই হারের ফলে কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দেকে দায়ী করছেন অনেকেই। কিন্তু মেসির মতে খেলোয়াড়রাও সমানভাবে দায়ী। তিনি বলেন, ‘শুধু কোচকেই নয়, আমি খেলোয়াড়দেরও দায়ী করি। ভালভার্দের অনেক সমালোচনা শুনেছি আমি কিন্তু তাকে আমি লিভারপুলের বিপক্ষে হারের কারণে দায়ী করছি না। আমাদের কোচ দারুণ কাজ করছেন। আমার মতে দলই দায়ী। এমন ম্যাচ খেলতে পারিনি আমরা।’
তিন গোলে এগিয়ে থেকেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বিদায়ের ঘটনা এটিই প্রথম নয় বার্সেলোনার। গেল বছরও রোমার কাছে একইভাবে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। ব্যাপারটি উঠে এলো মেসির কথায়ও, ‘একই ধরনের খেলা গেল বছর রোমাতেও খেলেছিলাম আমরা। ফিরতি লেগে আমরা মোটেও প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করতে পারিনি আমরা এবং এটা আমরা কোনোভাবেই করতে পারি না। লিভারপুল আমাদের চেয়ে অনেক অনেক ভালো খেলেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটা শোচনীয় ম্যাচ খেলেছি। এটা এক বছরে হতে পারে কিন্তু টানা দুই বছরে? তাও যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলার দারুণ সুযোগ ছিল! এটা মেনে নেয়া যায় না।’
এমন হারের পর মেসির বার্সা ছাড়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু মেসি এমন কিছুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন, ‘না, না এবং না। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও হয়েছি আমি। যখনই আমরা হারি, আমি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং শিরোপা জেতার চেষ্টা করার পক্ষপাতী। একই ব্যাপার বার্সার ক্ষেত্রেও প্রজোয্য।’
সেই ম্যাচটির জন্য ভক্তদের কাছে ক্ষমাও চাইলেন মেসি, ‘লিভারপুলের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের খেলার জন্য আমার ক্ষমা চাইতে হবে। ফলাফলের জন্য নয়, যেভাবে আমরা হেরেছি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’
গতকালই ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন মেসি। তবে বার্সা অধিনায়ক জানালেন ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে তার ন্যূনতম চিন্তাও নেই, ‘আমি এখনো লিভারপুলের বিপক্ষে হারটি নিয়ে ভাবি। গোল্ডেন শু নিয়ে ভাবার সময় নেই আমার।’
