মায়ের পুষ্টি শিশুর তুষ্টি। অর্থাত্ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবতী মা-ই কেবলমাত্র স্বাস্থ্যবান সন্তানের জম্ম দিতে পারে। পুষ্টিহীন মায়ের সন্তানের জম্মকালীন ওজন কম হয়, অসুস্থ হাবা, গোবা, রুগ্ন হয়ে জম্মায়। পরবর্তীতে নানা রোগে ভোগে। প্রসূতি মায়েদেরও নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। গর্ভবতী ও স্তন্যদাত্রী অবস্থায় মায়েদের খাবারের প্রয়োজন সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশী। আমাদের দেশে গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বেশী দেখা যায়। এই সময় সব খাবার বেশী খাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী ফলিক এসিড, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রণ, জিংকস সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অনেক সময় পুষ্টি সম্পর্কে ধারনা না থাকায় আয়োডিন এর অভাবে এবোরসন হয়ে থাকে। ফলে পুষ্টির অভাবে নিজের চাহিদার ঘাটতির সাথে সন্তান পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ঘাটতি নিয়ে জম্মায়। মাকে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বিভিন্ন গাঢ় রঙ্গিন শাক সবজি, ফল, টক জাতীয় ফল, পানি ও পানি জাতীয় খাবার প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে হবে। তাছাড়া এ সময় চিন্তামুক্ত ও আনন্দভাব নিয়ে থাকতে হবে। অনেক সময় কুসংষ্কার ও ভ্রান্ত ধারনা মায়ের অপুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে বৃদ্ধ বয়সে স্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টির চাহিদা রয়েছে। বয়স বাড়লে কাজ করার ক্ষমতা ও খাবারের চাহিদা কমে যায়। মৌল বিপাকহার কমে যায়, হূিপন্ডের কার্যক্ষমতা কমে যায়, রেচনতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়, অস্থি, দাঁত হাড়ের সমস্যা ও বাত-ব্যাধি দেখা দেয়, পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়, রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। এ বয়সে উচ্চ গাইসেমিকযুক্ত খাবার সাদা আটা, চাল, চিনি, ময়দা ইত্যাদি খাবার কম খেতে হবে। তেল, চর্বি লবণ, মিষ্টি, ক্যাফেন সমৃদ্ধ খাবার কম খেতে হবে। এ সময় প্রচুর পানি ও পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে। হজমে সহায়ক, কৌষ্টকাঠিন্যরোধ, বাত ও ওজন নিয়ন্ত্রিত খাবার খেতে হবে। লাল আটা, বিভিন্ন আঁশ জাতীয় শাক সবজি, ফল, চর্বিহীন মাছ-মাংস ইত্যাদি খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে হাঁটতে হবে। না হয় বিভিন্ন প্রকার হূদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, বাত রোগ, চোখের রোগ ইত্যাদি দেখা যায়। বয়স চল্লিশের পর থেকে ডিমের কুসুম, ঘি, মাখন, চর্বি জাতীয় মাছ, মাংস, শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে খাদ্যের চাহিদা অনুযায়ী নিম্ন গাইসেমিকযুক্ত আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে ক্যালসিয়াম ও লৌহের অভাব বেশী দেখা যায়। দুধ (সরতুলে), দুধের তৈরী খাবার, পনির, পায়েস ইত্যাদি খাওয়া যায়। আমাদের দেশে পুষ্টি সমস্যা শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দারিদ্রতা নয় পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতাও দায়ী। স্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সঠিক রান্নার পদ্ধতি যেমন ভাতের মাড় না ফেলা, শাক-সব্জি ধুয়ে কাটা, বড় করে কাটা, পাত্র ডেকে রান্না করা, তরকারী সিদ্ধ করে পানি না ফেলা, সালাদ কাঁচা খাওয়া ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। বাজারের টিন ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে বাড়ীতে তৈরী খাবার অনেক বেশী পুষ্টিকর। খাদ্য সম্পর্কে কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারনা দূর করতে হবে। খোলা ও বাসী খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী বয়স লিঙ্গভেদে স্বল্পমূল্যের শাক-সব্জি ডাল জাতীয় খাদ্যের সংমিশ্রণে পুষ্টিকর খাবার তৈরী করতে হবে। দুধ বা দুধজাতীয় খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। মৌসুমী ফল গ্রহণে আগ্রহী করে তুলতে
হবে। দামী খাবার হতে হবে এমন কথা নাই, কম দামে বেশী পুষ্টির
দিকে নজর দিতে হবে। যে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অবস্থা যত ভাল, সে দেশ তত বেশী উন্নত।
সুষম পুষ্টিকর খাবারই সুস্বাস্থ্য
নিশ্চিত করতে পারে। দেশের উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিহার্য। (শেষ)
