উখিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে জিম্মি সাধারণ মানুষ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২১:০৫
উখিয়ার উপকূলে প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সহযোগিতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট। জালিয় পালং ইউনিয়নের ইনানী, মাধারবনীয়া, চোয়াংখারী, বোয়াংখালী, চেপটখালী ও মনখালী এলাকার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। পরিবারের অজান্তে অধিক বেতনের লোভ দেখিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে লোকজন। উখিয়া থানা পুলিশ গত ৪ মাসে অর্ধ-শতাধিক দালালকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করলেও আইনের ফাঁক-ফোঁকর গলে তারা অনায়াসে বেরিয়ে আসছে। পুলিশ বলছে, তারা উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে দেড় শতাধিক মালয়েশিয়াগামীকে উদ্ধার করেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের দাবি পুলিশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কারণে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার থামছে না। উপকূলের পশ্চিম সোনাইছড়ি ও চোয়াংখালী গ্রামের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের অজান্তে দুই গ্রামের সহস্রাধিক সদস্য সাগর পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও শতাধিক ব্যক্তির কোন হদিস মেলেনি। পুত্র হারা মা পিতৃ হারা সন্তানদের আহাজারীতে গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। চোয়াংখালী গ্রামের দিনমজুর সৈয়দ আলম (৫৫) জানান, তার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটি দীর্ঘ ২ মাস যাবত্ নিখোঁজ হওয়ায় তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করতে হচ্ছে। একই গ্রামের গৃহবধূ নূরজাহান (১৯) জানান, বিয়ের ২ মাসের ব্যবধানে স্বামী নূরুল ইসলাম (২৫) মালয়েশিয়া যাওয়ার নামে কোথায় চলে গেছে জানিনা। স্থানীয় দালাল চক্র একদিন রাতের আঁধারে নৌকা ঠেলে সাগরে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি। চোয়াংখালী গ্রামের নুর হোছন (৪৮) কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় দালাল চক্র তার পুত্র আলী আহাম্মদকে ফুসলিয়ে অধিক টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। প্রিয় স্বজনদের কোন খোঁজ-খবর না পেয়ে গ্রামবাসী হতাশ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে এসব দালাল চক্র লোকজনকে মালয়েশিয়া নিয়ে গিয়ে তাদের নির্ধারিত স্থানে আটক করে রাখে। পরে মোবাইলে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। দালালদের দাবিকৃত টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ঐ মালয়েশিয়াগামীকে অসহনীয় শারীরিক নির্যাতন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। এসব ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যান সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করলে পুলিশের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। জারিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছন চৌধুরীর অভিযোগ, ইনানী পুলিশ জনপ্রতি হাজার টাকা আদায় করে মালয়েশিয়াগামীদের নৌকায় তুলে দিচ্ছে। স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসী এ কথার সাথে একমত পোষণ করে বলেন, পুলিশের আসকারা পেয়ে মানব পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইদ মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ পর্যন্ত মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডজনখানেক দালালকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।