নাইজেরিয়ায় ইসলামী জঙ্গিদের হাতে অপহরণের ২৫ দিন পার হলেও ছাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অপহূত প্রায় তিনশো কিশোরীকে উদ্ধারে নাইজেরিয়ার সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে। এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, অপহূত কিশোরীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের উদ্ধার করা কঠিন হবে। আর কিশোরীদের উদ্ধারে দেশটির সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে মানবাধিকার ও সমাজকর্মীরা।
গত ১৪ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার বোরনো রাজ্যের একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণ করে সশস্ত্র ইসলামপন্থী বোকো হারাম জঙ্গিরা। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ছাত্রীদের আলাদা করে দেশের বাইরে নেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘের বৈশ্বিক শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন বলেছেন, এখন প্রতিবেশী নাইজার, ক্যামেরন ও চাদে অনুসন্ধান চালাতে হবে। এসব দেশে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পুরো আফ্রিকাতে এসব কিশোরী পাচারের আগে এই তথ্য কাজে লাগাতে হবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, বোকো হারামকে দমনে সব কিছু করা হবে। অপহূত কিশোরীদের ফিরিয়ে আনতে মার্কিন কর্মকর্তারা নাইজেরিয়া সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, বিশ্বকে শুধু নিন্দা জানালে চলবে না। নাইজেরিয়াকে সহায়তায় সবকিছু করতে হবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, অপহূত ছাত্রীদের সন্ধানে স্থানীয় বাহিনীকে পরামর্শ, তদন্ত ও সমন্বয়ে সহায়তা দেবে মার্কিন কর্মকর্তারা।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বত্তৃদ্ধতায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাথন গুডলাক বলেছেন, ছাত্রীদের এই অপহরণ হবে নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাস দমনের শুরু। তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিশোরীদের সন্ধানে ব্রিটিশ স্যাটেলাইট ও এডভান্স ট্রাকিং পদ্ধতিও ব্যবহার করা হবে। চীনও গোয়েন্দা সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স নাইজেরিয়ার প্রতিবেশি দেশগুলোকে সহায়তা দিতে সাহেল অঞ্চলে জঙ্গি দমনে তিন হাজার সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহেই এক ভিডিও বার্তায় এসব কিশোরীকে বিক্রির হুমকি দিয়েছে বোকো হারামের নেতা আবুবকর শেকাউ। সোমবার সন্দেহভাজন বোকো হারাম জঙ্গিরা ক্যামেরন সীমান্তের কাছে একটি প্রাদেশিক রাজধানীতে হামলা চালায়। সেখানে ৩১০ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
কিশোরীদের উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‘আমাদের মেয়েদের ফিরিয়ে দাও’ স্লোগানে নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এসব কিশোরীকে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছে। হলিউড অভিনেত্রী এঞ্জেলিনা জোলি অপহরণকারীদের ক্ষমা করার সংস্কৃতির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা বন্ধে বিশ্বকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাকিস্তানের নারী শিক্ষার আন্দোলন কর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন, এ অপহরণের ঘটনায় বিশ্বকে নীরব থাকা উচিত হবে না। কারণ নীরব থাকলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বোকো হারাম প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা পশ্চিমা ধাঁচের শিক্ষার বিরোধিতা করে আসছে সংগঠনটি। একটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০০৯ সালে তারা জঙ্গি হামলা শুরু করে। এখন পর্যন্ত তাদের সহিংসতায় প্রায় ১২শ’ জন নিহত হয়েছে। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বোকো হারামকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করে।
