‘টেকসই উন্নয়ন:আমাদের আগামী (২০১৪-১৫) বাজেটের জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সম্পত্তিতে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে নারীকেই আগে সচেতন হতে হবে। যাদের অধিকার নিয়ে আমরা কাজ করছি কিন্তু তারাই আবার হেফাজতের কথায় টালমাটাল হয়ে পড়ছেন। এটা আমাদের ব্যথিত করে। তিনি বলেন, নারী আন্দোলনে পুরুষদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
পিপলস প্রোগ্রেসিভ ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ড. হান্নানা বেগম। ট্রাস্টের সভাপতি মারুফা আক্তার পপির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান রেবেকা মোমিন, সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ড. ফারজানা ইসলাম, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়শা খানম। ট্রাস্টের সদস্য শরিফুজ্জামান সেমিনার পরিচালনা করেন।
রেবেকা মোমিন বলেন, নারীকে অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষমতায়িত করতে হবে। তা না হলে নারী এগিয়ে যেতে পারবে না। সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সম-অধিকার থাকতে হবে।
শিরিন আখতার বলেন, যে কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নারীকে স্থান দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। বিভিন্ন মেয়াদে এক একটি ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজন নারী আন্দোলন।
ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীলতা নারী-পুরুষের শত্রুতা নয় তাদের সমতাকে বুঝায়। ঘরের অভ্যন্তরে যারা থাকেন তাদেরই আগে জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে। টেকসই উন্নয়নে অধিকার ও সুযোগ এই দু’য়েরই দরকার বলে মন্তব্য করেন আয়শা খানম।
