খোলা বাজারের চাল কালো বাজারে

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২২:০৭
বান্দরবানে সরকারি খোলা বাজারের চাল (ওএমএস) পাচার হচ্ছে কালো বাজারে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। এ কর্মসূচিতে প্রতি কেজি চাল ২৪ টাকায় এবং আটা ২২ টাকা দরে খোলা বাজারে বিক্রি করার কথা। কিন্তু বান্দরবানে বরাদ্দের শতকরা ৫০ ভাগও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। এখানে ডিলারদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে গোপন চুক্তি। ডিলাররা নামমাত্র খাদ্য দোকানে রেখে বাকিটা পাচার করে দিচ্ছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, ডিলার এবং খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সমঝোতায় এভাবেই লুট হচ্ছে খোলা বাজারের বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য। অথচ প্রতিদিন জনপ্রতি ১ টন করে চাল উত্তোলন করে খোলা বাজারে বিক্রির নিয়ম রয়েছে ডিলারদের। বান্দরবান পৌর শহরের নয়টি ওয়ার্ডের নিয়োগ করা চালের ডিলাররা খাদ্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সপ্তাহে ১ টন করে চাল উত্তোলন করেন। বাকি চালগুলো সপ্তাহের প্রতি শনিবার বৈঠক করে কালো বাজারে পাচার করে দিচ্ছেন তারা। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন কয়েকজন ডিলার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, গুদাম থেকে চাল ছাড় না করে যেই টাকা পায়, চাল ছাড় করে বিক্রি করে সেই টাকা পায় না। আতব চালের কিছুটা চাহিদা থাকলেও সিদ্ধ চাল চলেই না। প্রতিটি ডিলার এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। খাদ্য বিভাগের সহায়তায় এই অনিয়ম চলছে বহুদিন ধরে। কালো বাজারে খাদ্য পাচারে সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো:মাঈন উদ্দিন জানান, ডিলারেরা প্রতিদিনের চাল প্রতিদিনই ছাড় করে নিয়ে যান। কোথায় কি করেন, সেটি তারা জানেন। তবে আতব চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ডিলাররা কয়েকদিন পরপর ছাড় করাচ্ছেন। বান্দরবান জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ইকবাল হায়দার চৌধুরী ঘুষের বিনিময়ে খাদ্য কর্মকর্তারা ডিলারদের পাচারের সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, খোলা বাজারের চাল পাচারের বিষয়টি আমার জানা নেই। ওএমএস চাল বিক্রির বিষয়টি তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি রয়েছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টি দেখেন। পাচারের প্রমাণ পেলে ডিলারসহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।