মানুষ মাত্রই কৌতূহলী প্রাণী। এই কৌতূহল যদি না থাকত কোনো আবিষ্কারই ঘটত না, আসত না আজকের এই আধুনিক জীবন। তবে কৌতূহল নতুন আবিষ্কারের জন্য যেমন দরকারি, তেমনই অতি কৌতূহল ব্যক্তিজীবনের জন্য ততটাই ক্ষতিকর। ধরুন আপনার অফিসে পাশের টেবিলের কলিগের হয়তো কোনো কারণে মন খারাপ। একজন সহকর্মী হিসেবে অবশ্যই এটি আপনার নৈতিক দায়িত্ব তাকে জিজ্ঞেস করা কেন তার মন খারাপ। এমন হতেই পারে যে, তার মন খারাপ এতটা বাজে পর্যায়ের যে তিনি কোনো ধরনের কথাই বলতে চাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই উচিত হবে না তাকে বারবার জিজ্ঞেস করা অথবা অযাচিতভাবে তার মন ভালো করতে গিয়ে তার বিরক্তির কারণ হওয়া। সবসময় কারো সাথে কথা বললেই মন ভালো হবে তা নয়। কিছুটা সময় মানুষের একান্ত নিজের জন্যও দরকার হয়। সেই সময়টুকু দিন তাকে। অনেকসময় দেখা যায়, আপনার বন্ধু অথবা কাছের কেউ আপনার সাথে কোনো ব্যাপারে কিছু শেয়ার করেছে। কিন্তু আপনার কৌতূহলী মন আরও জানতে চেয়ে আপনাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল। আপনি যদি তার কাছে আরও বিশদভাবে জানতে চাইলেন। যতটুকু আপনাকে তিনি জানাতে চান সেটুকুই বলেছেন। এর বেশি জানতে চাইলে আপনার উপর স্বাভাবিকভাবেই তিনি বিরক্ত হবেন।
নিজেকে এই বিরক্তির তালিকা থেকে বাদ রাখতে চাইলে কী করবেন? চাইলেও নিজের মনের কৌতূহল চেপে রাখতে পারছেন না? কিছু সমস্যা থাকে যা শুধু নিজেকেই সমাধান করতে হয়। এই ‘অতিরিক্ত কৌতূহল’ রোগটিও তার মধ্যে একটি। আপনার রোগ সারানোর দায়িত্বও আপনার। বাকি সবার জীবনেও যে ব্যক্তিগত বলে কিছু থাকতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে শিখুন। সবার হাঁড়ির খবর আপনার কাছে থাকবে এমন আশা করাটাও নেহাত বোকামি। সৌজন্য বজায় রেখে প্রশ্ন করুন, দেখবেন একের প্রতি অন্যের সম্মান বেড়ে যাচ্ছে।
