সকালে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যসম্মত। জ্ঞানীজনরা বলেন, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে স্বাস্থ্যবান, জ্ঞানী আর ধনী হওয়া যায়। আরলি টু বেড অ্যান্ড আরলি টু রাইজ, মেকস অ্যা ম্যান হেলদি ওয়েলদি অ্যান্ড ওয়াইজ—বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের উক্তি। আজকাল অনেকেরই অভ্যাস দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা। কিন্তু সকালে সূর্য ওঠার আগে ঘুম থেকে ওঠা একজন সচেতন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার স্বাস্থ্য সুবিধা অনেক—
রক্তের তেল-চর্বির উচ্চমাত্রা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি প্রতিরোধে সহায়ক।
বিকেলে ব্যায়াম করার চেয়ে সকালে ব্যায়াম করার সুবিধা একটু বেশি। সারা রাত ঘুমানোর কারণে শরীরের পেশিগুলো একটু শিথিল হয় এবং ব্যায়ামের জন্য বেশি উপযোগী থাকে। পক্ষান্তরে বিকেলে পেশিগুলো থাকে ক্লান্ত-শ্রান্ত।
ব্যস্ত জীবনে বিকেলে হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা সহজ না-ও হতে পারে। তাই সকালে উঠার অভ্যাস করতে পারলে সব কাজ সামলে নিজের শরীরের যত্নের ব্যাপারে সচেতন হওয়া সম্ভব।
সকালের বাতাস থাকে নির্মল। ধুলোবালু আর ক্ষতিকর গ্যাস খুবই কম থাকে তখন বাতাসে। এরূপ বাতাস শরীরের জন্য উপকারী। সকালে পড়াশোনা মনে রাখার শক্তি বেশি থাকে। লেখাপড়া করার জন্য সময়ও পাওয়া যায় বেশি। জ্ঞানার্জনের জন্য সকালে ওঠা তাই খুবই সহায়ক। খুব ভোরে উঠলে সকাল সকাল নাশতা করার সুবিধাও পাওয়া যায়।
সারারাত না খেয়ে থাকার ফলে সকালবেলা আমাদের শরীরে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায়। সকাল সকাল নাশতা করলে সকাল সকালই শরীরের খাদ্যের অভাব পূরণ হয়।
সকালবেলার একটু বেশি পরিমাণে নাশতা সারা দিন শরীরটাকে কর্মক্ষম রাখে। দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে নাশতা করার জন্য বেশি সময় নাও পাওয়া যেতে পারে। ফলে অল্প নাশতা করেই কাজে বেরিয়ে পড়তে হতে পারে।
শরীর ব্যবহার করবে শরীরের জমে থাকা শক্তি। আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়বে শরীর। সকালে উঠলে এ সমস্যাগুলো হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।
সুতরাং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
