জাপান কোচ আলবার্তো জ্যাচ্চেরোনি জানান দিয়েছেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কাউকে ভয় পাবে না। ইতালিয়ান এই কোচ গতকাল সোমবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণার সময় এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ব্রাজিলে ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের মোকাবিলার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হবে জাপানিদের। তবে ৬১ বছর বয়সী জ্যাচ্চেরোনি মনে করেন আসন্ন লড়াইয়ে কারো সুনাম বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। দুদেশের মধ্যকার খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন। এছাড়াও ব্লু সামুরাই নামে খ্যাত দলটি ‘সি’ গ্রুপে কলম্বিয়া ও গ্রীসের মোকাবেলা করবে।
জ্যাচ্চেরোনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বিপক্ষকে সমীহ করবো। তাই বলে ভীত হবো না। আপনি যদি ভয় নিয়ে খেলতে যান, তাহলে সমস্যায় পড়বেন। আমাদের তাই প্রস্তুতি নিয়েই যেতে হবে এবং দেখাতে হবে নিজেদের গুণপনা। আমাদের আছে অনেক আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়।’
কাগজে কলমের হিসেবে জাপান তাদের গ্রুপ বিবেচনায় দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে বলে আশা করছে ফুটবল বোদ্ধারা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে দলটি এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নদের কোচ এ লক্ষ্যে দল ঘোষণার প্রাক্কালে বলেন, ‘আমার মাথায় দলটা ছিল। তারপরও আমি যতটা সম্ভব খেলোয়াড়দের দেখে নিতে চেয়েছিলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘দলটাকে ২৩ জনে নামিয়ে আনা রীতিমতো লড়াই ছিল। আমি তো (ফিফা সভাপতি) সেপ ব্ল্যাটারকে ফোন দিয়ে আমাকে আরো বেশি খেলোয়াড় বাছতে দিতে বলতে চেয়েছিলাম। তবে এই খেলোয়াড়রা জানে আমি তাদের কাছ থেকে কেমন খেলা চাই।’
দল ঘোষণা করতে গিয়ে কোচ এও জানান যে অধিনায়ক মাকোতো হাসেবে ও রাইট ব্যাক অ্যাতসুতো উছিদা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সময়মতো ইনজুরি থেকে সেরে উঠবে। তার দলটিতে বড় তারকাদের মধ্যে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শিনজি কাগওয়া।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ২০১২ সালের জুনে পাড়ি জমানো কাগওয়া ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে নিয়মিত একাদশে ঠাঁই পেতে দুর্দশায় পড়েন। তারপরও জ্যাচ্চেরোনি তার ব্রাজিলগামী দলে রেখেছেন কাগওয়াকে।
সাউদাম্পটন ডিফেন্ডার মায়া ইয়োশিদা হাঁটুর ইনুজরির কারণে ফেব্রুয়ারির পর প্রিমিয়ার লিগের দলটির হয়ে খেলতে না পারলেও জাপান দলের ইউরোপভিত্তিক ১২ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন। এদেরই অন্যতম এসি মিলান মিডফিল্ডার কেইসুকে হোন্ডা ও জার্মানির মেইঞ্জ ফরোয়ার্ড শিনজি ওকাজাকি।
গোলরক্ষক:এইজি কাওয়াশিমা (স্ট্যান্ডার্ড লিয়েগে/বেলজিয়াম), শুসাকু নিশিকাওয়া (উরুওয়া রেডস), শুইচি গোন্ডা (এফসি টোকিও)।
রক্ষণভাগ: ইয়াসুয়ুকি কোন্নো (গাম্বা ওসাকা), মাসাহিকো ইনোহা (জুবিলিও আইওয়াতা), ইয়ুতো নাগাতোমো (ইন্টারমিলান/ইতালি), মাসাতো মোরিশিগে (এফসি টোকিও), আতসুতো উছিদা (শালকে/জার্মানি), মায়া ইয়োশিদা (সাউদ্যাম্পটন/ইংল্যান্ড), হিরোকি সাকাই (হ্যানোভার ৯৬/জার্মানি), গোতোকু সাকাই (স্টুর্টগার্ট/জার্মানি)।
মধ্যমাঠ: ইয়াসুহিতো এন্ডো (গাম্বা ওসাকা), মাকোতো হাসেবে (ন্যুরেমবার্গ/জার্মানি), তোশিহিরো আয়োমা (সানফ্রেসে হিরোশিমা), হোতারু ইয়ামাগুচি (চেরেজো ওসাকা), কেইসুকে হোন্ডা (এসি মিলান), শিনজি কাগওয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/ইংল্যান্ড)।
আক্রমণভাগ: ইয়োশিতো ওকুবো (কাওয়াসাকি ফ্রন্তেলে), শিনজি ওকাজাকি (মেইঞ্জ/জার্মানি), হিরোশি কিয়োতাকে (নুরেনবার্গ/জার্মানি), ইয়োইচিরো কাকিতানি (সেরেজো ওসাকা), মানাবু সাইতো (ইয়োকোহামা এফ-ম্যারিনোস) ও ই্উইয়া ওসাকা (১৮৬০ মিউনিখ/জার্মানি)।
