মোবারক মাহে রমজান

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ২২:১৫

আজ ২০ রমজান। আজকের সূর্য অস্ত গেলে আসবে ২১ রমজান। শুরু হবে মাহে রমজানের দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দশক যা শাওয়ালের চাঁদ দেখা পর্যন্ত বলবত্ থাকবে। রমজানের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রজনী লায়লাতুল কদর। প্রিয় নবী সরকারে দোআলম নূরে মাজাসসম হযরত মুহম্মদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’  মসজিদুন্ নববীতে তওবার খুঁটির পাশে তাঁবু খাটিয়ে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ শব্দের অর্থ একটি স্থানে অবস্থান করা। ইতিকাফ বলতে বুঝায় আধ্যাত্মিক অনুধ্যান ও অনুশীলনের জন্য নিভৃতে অবস্থান গ্রহণ। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার প্রধান কারণ লায়লাতুল কদরকে পাওয়ার স্পৃহা।

সূফীয়ারে কেরাম ইতিকাফের উপর খাস গুরুত্বারোপ করেছেন। যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মাওলানা শাহ্সূফী আলহাজ তোয়াজউদ্দীন আহ্মদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেছেন: ইতিকাফ হালতে শবেকদরকে একান্ত নিকট থেকে অবলোকন করা যায়। ২০ রমজানের সূর্যাস্ত যাবার সঙ্গে সঙ্গে ইতিকাফের সময় শুরু হয়। জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে ইতিকাফের সময় শেষ হয়ে যায়। ইতিকাফ অবস্থায় সাংসারিক কাজ-কর্ম করা, হাট-বাজার করা, কেনা-কাটা প্রভৃতি করা যায় না। দুনিয়াবী কথাবার্তা বলা যায় না। প্রস াব-পায়খানার প্রয়োজনে এবং অপরিহার্য গোসল করার প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য ইতিকাফ স্থল থেকে বাইরে যেয়ে দ্রুত কর্ম সম্পন্ন করে ত্বরিত ইতিকাফ স্থলে ফিরে আসতে হবে। মেয়েরা আপন গৃহে পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নির্জনবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে ইতিকাফ করতে পারেন। রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া।

অতএব কোনো পাড়া বা মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ না হলে সে মহল্লার অধিবাসীগণ গোনাহ্গার হয়ে যাবেন। আর সেই মহল্লার বা পাড়ার একজনও যদি ইতিকাফ করেন তাহলে সবাই তার সমান সওয়াব পেয়ে যাবেন। সিয়ামের রাতে স্ত্রী গমন বৈধ হলেও ইতিকাফ অবস্থায় রাতে স্ত্রী গমন করা নিষিদ্ধ।

ইতিকাফ যিক্র-আয্কার, মুবাকা-মুশাহাদা, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইসিতগ্ফার, দরুদ শরীফ ইত্যাদি করার মাধ্যমে দিন-রাত গুজরান করতে হয়।