ঘোড়ার দৌড় অথবা গাড়ির কিংবা মোটর সাইকেল দৌড় প্রতিযোগিতার সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এক্ষেত্রে কোন একজন ব্যক্তি এই মোটর সাইকেল কিংবা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু যদি বলা হয় রোবটের দৌড়! তাহলে কেমন লাগবে? ব্যতিক্রমধর্মী তাই না? এরকমই একটি ব্যতিক্রমধর্মী রোবট দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের গত পহেলা মে থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চুয়েট শিক্ষার্থীদের সংগঠন রোবো মেকাট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (আরএমএ)।
চুয়েটে দ্বিতীয়বারের মত হয়ে গেল এই ধরনের রোবট দৌড় প্রতিযোগিতা। এবারের আসরে অংশ নেয় সারা দেশ থেকে ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬৭টি দল। রোবট দৌড় উপলক্ষে কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের পাশে তৈরি করা হয়েছিল রোবট দৌড় মাঠ। মাঠটিকে ভাগ করা হয়েছে দুইটি ইউনিটে। ইউনিট দুটিতে একই সময়ে যাত্রা আরম্ভ করে একটি করে রোবট। এই যাত্রাপথকে সাজানো হয়েছে আঁকাবাঁকা করে তাতে দেয়া হয়েছে উঁচু-নিচু ব্রীজ। এছাড়াও পথিমধ্যে রয়েছে একটি করে লাল রংয়ের বস্তু। দেখার বিষয় কোন রোবটটি কত দ্রুত এই বস্তু ধরে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে পারে।
শুক্রবার চুয়েটের রোবট দৌড় মাঠে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ৬৭টি রোবটকে টপকে সেরা দৌড়বিদের মর্যাদা পায় দল সাইবারট্রন দলের তৈরি করা রোবটটি। বিইউবিটির তড়িত্ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই দলে সালসেং ম্রং ও সায়েম মো. আলভি ছাড়াও সদস্য হিসেবে ছিলেন মীর মাজেদুর রহমান, দীপক কুমার বর্মণ ও রিয়াদুল ইসলাম।
তারা জানান, অনেক দিন ধরে একসঙ্গে কাজ করলেও এটাই প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া। আর প্রথমবারেই এত বড় সাফল্য পেয়ে বেশ চাঙা দলের সদস্যরা। টিম সাইবারট্রনের দলনেতা সালসেং ম্রং বলেন, জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতায় কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি। এ সাফল্য আমাদের রোবট চর্চায় আরও বেশি উত্সাহ ও প্রেরণা জোগাবে।
রোবট দৌড় প্রতিযোগিতার রানার্সআপ দলের নাম ’ইইইভিএ’। চুয়েটের এ দলটির বিশেষত্ব হলো এ দলের সদস্যরা সবাই মেয়ে। দলের নামকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দলনেতা নাদিয়া তাবাসসুম বলেন, ’ওয়ালি’ নামের একটি টিভি কার্টুনের মেয়ে চরিত্রের নাম অনুসারে দলের নাম রাখা হয়েছে ইভা (ইংরেজিতে ইইইভিএ)। নাদিয়া ছাড়া দলের অপর সদস্যরা হলেন রেবেকা সুলতানা, আফসানা রহমান, ফাতেমা চৌধুরী ও আফরিদা আলম। ফাতেমা যন্ত্রকৌশল ও আফরিদা স্থাপত্য বিভাগে পড়াশোনা করেন। বাকি তিনজন ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী। দলে এই বিভাগের তিনজন মেয়ে থাকায় ব্যবহার করা হয়েছে তিনটাই। পরিশ্রম করলে তার মূল্য যে কেউ পেতে পারে । তবে তিনি আশা করেন, বিজ্ঞানচর্চায় দেশের মেয়েরা আরও বেশি আগ্রহী হবে। রোবট নিয়ে টানা পরিশ্রম করেছেন নাদিয়ারা। পেয়েছেন শিক্ষকদের সহযোগিতাও। এসব কারণে সম্ভব হয়েছে এই অর্জন।
