যারা ক্যামেরার পিছনে থেকে একগুচ্ছ কথা বা একটি গল্প কিংবা কিছু তথ্যকে নান্দনিকভাবে চরিত্রায়ণ করে মানুষের আবেগ বা বিবেককে তাড়িত করেন তাদেরই পথে হাঁটছেন যারীন অদিতি। কাজটা মোটেও সহজ নয়। তবুও অসীম ধৈর্য আর অক্লান্ত পরিশ্রমকে সমন্বয় করে নিজেকে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কাজের শুরুটা একেবারে ছোটবেলা থেকে। বাবা-মা দু’জনেই থিয়েটার অনুরাগী। আর সেখান থেকেই হাতে খড়ি। তাইতো ছোটবেলার সব প্রতিযোগিতায় একক কৃতিত্ব তার। উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, একক অভিনয়সহ নানা প্রতিযোগিতায় অদ্বিতীয় স্থানে অদিতি। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটাক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর এ কাজ আরও সহজ হয়েছে তার জন্য। আর এখন শুরু করেছেন যেকোনো ঘটনাকে ক্যামেরার চোখে উপস্থাপন করার। যার অংশ হিসেবে ‘ফাঁপর’ নামক শর্টফিল্ম তৈরির মধ্যদিয়ে অভিষেক হয় এ জগতে তার। এছাড়া ফাঁপর-টু, নির্যাতন, পরের গল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অদিতির প্রথম মঞ্চায়িত নাটক হযবরল। সামনে তিনি কিছু টেলিভিশনে কাজের পরিকল্পনা করছেন। বরিশাল শহরে বেড়ে ওঠা অদিতি কীভাবে তার কাজের মাঝে গ্রামীণ পরিবেশ ও মানবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন? জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে। উত্তরে তিনি, ‘আসলে সত্যি কথা বলতে আমি শহরে বেড়ে উঠলেও আমার দাদী বাড়ি গ্রামে হওয়ার কারণে গ্রামীণ পরিবেশ আমাকে টানতো। তাছাড়া কাজের মধ্যে কোনো বিষয়কে ফুটিয়ে তুলতে পরিবেশের চেয়ে বড় বিষয় হলো ইচ্ছা ও মানসিকতা। আমি চেষ্টা করি গত্বাধা কাজ থেকে বেরিয়ে এসে একটু আলাদা কিছু করার।’ ‘ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে কাজ করতে চাই। তাছাড়া আমার মেধা ও কাজের মাধ্যমে নিজের দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই সোনার বাংলাদেশকে’। এমন ইচ্ছা অদিতির। নিজেকে একজন নির্মাতা হিসেবে তৈরি করলেও অবসরে গান ও বইয়ের প্রেমে হারিয়ে যান তিনি। আর একটু বেশি সুযোগ পেলেইে ভালোবাসার টানে মায়ের কোলে গিয়ে জীবনের সুখানু-ভূতিগুলো কুড়াতে চেষ্টা করেন অদিতি।
