উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা হলো সুপেয় পানি। আফ্রিকার অনেক দেশেই এই সুপেয় পানির সঙ্কট অত্যন্ত তীব্র। এসব দেশে পানিকে বিশুদ্ধ করার জন্য তৈরি ফিল্টারও সচরাচর সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে। প্রযুক্তির এই যুগে এসে পানির এই সমস্যার একটি সমাধানে ব্রতী হয়েছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। আর এর সমাধানে তারা তৈরি করেছেন এমন একটি বিশেষ বই, যেটি মানুষকে বিশুদ্ধ পানিকে যেমন সচেতন করে তুলবে, তেমনি সেই বইটিই কাজ করবে একটি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার হিসেবে। হ্যাঁ, শুনতে খানিকটা আশ্চর্যজনক হলেও বলতে গেলে পানীয় একটি বই তৈরি করেছেন এই গবেষকরা।
দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াটার ইজ লাইফ’ এবং ক্রিয়েটিভ এজেন্সি ‘ডিডিবি নর্থ আমেরিকা’র যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ বই। ‘দ্য ড্রিংকেবল বুক’ শিরোনামের এই বইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ বিশেষ প্রযুক্তি। আর তাতে করে এটি বিশুদ্ধ পানির একটি উেস পরিণত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই বইয়ের যে কপিগুলো তৈরি করা হয়েছে, তার প্রতিটি পৃষ্ঠায় রয়েছে একাধিক ভাষায় লেখা বিশুদ্ধ পানি সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস। শুরুতে কেনিয়ার জন্য তৈরি করা বইগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে ইংরেজি এবং স্থানীয় সোয়াহিলি ভাষা। দেশটিতে শিক্ষার হার বেশ কম এবং বিশুদ্ধ পানি বিষয়ক সচেতনতাও খুব বেশি মানুষের মধ্যে নেই। এ কারণেই এই বইগুলোতে ‘ফুড গ্রেড’ কালি ব্যবহার করে ছাপানো হয়েছে লেখা। প্রতিটি বইয়ের সাথেই রয়েছে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে তৈরি একটি বিশেষ বক্স। এই বক্সটিকেই ব্যবহার করা যায় ফিল্টার ট্রে হিসেবে। বাইয়ের একটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নিয়ে এই ট্রে’র ওপরে স্থাপন করলেই এটি পরিণত হয় একটি ফিল্টারে।
এই বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে সিলভার ন্যানোপার্টিকেল। এই সিলভার ন্যানোপার্টিকেল বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই বইয়ের পৃষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে পানি ফিল্টার করা হয়, তাতে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। ফলে কলেরা, টাইফয়েড, ই.কোলির মতো ব্যাকটেরিয়াবাহিত রোগ এই বই-ফিল্টার ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সক্ষম। অবশ্য পানিতে কোনো রাসায়নিক দ্রব্য দ্রবীভূত থাকলে সেটি এই বই-ফিল্টার দূর করতে পারে না। কিন্তু এর কার্যকারিতা কেনিয়ার মতো একটি দেশে সাধারণ মানুষের জন্য আশির্বাদ হয়েই এসেছে।
এই বই-ফিল্টারের প্রতিটি পৃষ্ঠায় রয়েছে দুইটি করে ফিল্টার এবং এর প্রতিটি ১০০ লিটার পর্যন্ত পানি বিশুদ্ধ করতে সক্ষম। কিছুদিনের মধ্যেই এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছে নির্মাতারা। আগামী বছরেই এর বাণিজ্যিক বাজারজাতকরণ শুরু হবে।
সানজিদা সুলতানা
