মনপুরায় ৮দিন সিট্রাক বন্ধ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ১৩ মে ২০১৪, ২১:১৩
ভোলা জেলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌরুটের যাত্রীবাহী সিট্রাকটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফের বিকল হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলার দিয়ে বিশাল মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছে। কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত নৌ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিট্রাকটি ১৭ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ এপ্রিল নৌ-রুটে চলাচল শুরু করে। ১৪দিন সিট্রাকটি চলার পর ফের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ৫মে সকাল ১০টায় সিট্রাকটি হাজির হাট ঘাট হতে ছেড়ে তজুমদ্দিন উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে মেঘনার মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ বিকল থাকায় নৌপথের একমাত্র মাধ্যম সিট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিট্রাক বন্ধ থাকায় ব্যাংক গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কারণ জেলা থেকে গ্রাহকদের টাকা আনতে পারছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বার বার এই রুটে সিট্রাকটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ছে। নিয়মিত যাত্রী গিয়াসউদ্দিন আজম, তোহিদ মেম্বার, ময়ফুল বেগমসহ অসংখ্য যাত্রীদের অভিযোগ, টেন্ডার পাওয়া মালিক পক্ষ নিজেদের সুবিধার জন্য এই রুটে অত্যাধুনিক সিট্রাক বাদ দিয়ে বহু পুরনো সিট্রাক বরাদ্দ করে নিয়ে আসে। সিট্রাকটি বন্ধ রেখে ট্রলার মালিকদের সাথে অর্থের বিনিময়ে মেঘনায় যাত্রী পারাপারের জন্য ট্রলার চালানোর সহযোগিতা করেন। বিআইডব্লিউটিসির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে একক আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন এসব মালিক পক্ষ। সিট্রাক টেন্ডার পাওয়া এস.কে ট্রেডার্সের ঠিকাদার মোঃ ভুট্রো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিট্রাক বন্ধ রয়েছে। মেশিনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের বরাবর দরখাস্ত করেছি। মেশিনের নতুন যন্ত্রাংশ ঢাকা থেকে এখনও আনতে পারিনি। নতুন যন্ত্রাংশ আনার পর সিট্রাকের ইঞ্জিনের কাজ করে চালু করা হবে বলে তিনি জানান।