রামেকে বিতর্কিত ইন্টার্ন চিকিত্সকদের রাতের আঁধারে সনদ প্রদান!

আপডেট : ১৩ মে ২০১৪, ২৩:০৩
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বিতর্কিত ইন্টার্ন (শিক্ষানবিশ) চিকিত্সকদের রাতের আঁধারে সনদপত্র দিয়েছেন পরিচালক। সোমবার নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে পরিচালক ২০ ইন্টার্ন চিকিত্সককে সনদপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত শনিবার ৪৯তম ব্যাচের ১১৫ জন শিক্ষার্থীর ইন্টার্ন কোর্স সম্পন্ন হয়। ওই দিনই কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিত্সক তাদের সনদ নিতে পরিচালকের দপ্তরে যান। কিন্তু পরিচালক তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সনদ দেয়া যাবে না বলে জানান। অথচ একদিন পরেই রাতের আঁধারে তিনি সনদ বিতরণ করেন। এদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত ইন্টার্ন চিকিত্সকদের সনদ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গত, গত ৮ মে উচ্চ আদালত রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিত্সকদের সনদ না দিতে কেন নির্দেশ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।সূত্র জানায়, রামেক অধ্যক্ষসহ স্বাচিপ ও বিএমএ’র সিনিয়র নেতাদের চাপে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ৪৯তম ব্যাচের এমবিবিএস পাশ ও এক বছরের ইন্টার্ন কোর্স সম্পন্নকারী ২০ জনকে নিজ অফিসে ডেকে নেন। এরপর রাত ৮টার দিকে পরিচালক তাদের হাতে ইন্টার্ন কোর্স সম্পন্নের সনদপত্র দেন। সনদ নিয়ে কোর্স সম্পন্নকারী ইন্টার্নরা এফসিপিএস পরীক্ষার ফরম পূরণ করবেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি তার মোবাইল ফোনও রিসিভ করেননি। তবে হাসপাতালের একাধিক সূত্র রামেকের অধ্যক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০ ইন্টার্ন চিকিত্সককে সনদ দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সনদ পাওয়া ২০ জনের মধ্যে গত ২০ এপ্রিল রাতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিত্সক নেতা শামীম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ইন্টার্ন চিকিত্সক রয়েছেন। এ ব্যাপারে রাজশাহীর সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শ. ম সাজু বলেন, ‘রাতের আঁধারে সনদ বিতরণ করে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন পরিচালক’।