সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রযুক্তি পণ্য হিসেবে স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসি দখল করে নিয়েছে শীর্ষ পণ্যের স্থান। বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোনের বাজারেও ফিচার ফোনের চাইতে স্মার্টফোনের বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশি। তবে বিশ্বসেরা স্মার্টফোন নির্মাতারা তাদের স্মার্টফোনের সিপিইউয়ের জন্য নির্ভর করে থাকে চিপ নির্মাতাদের উপর। কোয়ালকম, এআরএম-এর মতো সব চিপ নির্মাতারাই এই চিপের বাজার দখল করে নিয়েছে। কিছুদিন হলো ইন্টেলও প্রবেশ করেছে চিপের বাজারে। স্মার্টফোন নির্মাতাদের সবাইকেই এসব চিপ নির্মাতার ওপর নির্ভর করতে হয় মোবাইল সিপিইউয়ের জন্য। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে দেশটির সরকার। ৩৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প, বাণিজ্য ও শক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোবাইল সিপিইউ তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয়ভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল সিপিইউ তৈরি করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে মোবাইল সিপিইউএয়র জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার স্মার্টফোন নির্মাতাদের খরচ করতে হয় ১৮০ বিলিয়ন ওন বা ১৭৬ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১২ সালে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫০ বিলিয়ন ওন বা ৩৪২ মিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের পুরোটাই লাভ করে বিদেশি কোম্পানিগুলো। ২০২০ সাল নাগাদ শুধু মোবাইল সিপিইউয়ের পেছনে খরচ করতে হবে ৯০০ বিলিয়ন ওন বা ৮৮০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যেন বিদেশি কোম্পানির কাছে খরচ না হয়ে নিজেদের মধ্যেই থাকে সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্ট হাতঘড়ির মতো পরিধেয় গ্যাজেটের বাজার ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব ডিভাইসের জন্যও সিপিইউ তৈরি হবে এই প্রকল্পে, যেগুলোর গতি হবে ১০০ মেগাহার্জ থেকে ১ গিগাহার্জ। এই প্রকল্প সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, মেমোরি চিপের বাজারের তুলনায় প্রসেরের বাজার প্রায় ৪গুণ। দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলো মেমোরি চিপ তৈরি করলেও তারা প্রসেসর তৈরি করে না। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব মোবাইল সিপিইউয়ের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
