মেরাজ ও আবু বকর (রা.)-এর সিদ্দীক উপাধি লাভ

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২০:১৮
ইবনে ইসহাক বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লা-হু আলাইহি অসাল্লাম মেরাজ থেকে মক্কায় ফিরে আসেন। অতঃপর সকাল থেকে কুরাইশদের কাছে গিয়ে তিনি মেরাজের খবরটা দিলেন। তখন অধিকাংশ লোক বলেন, আল্লাহ্র কসম! এটা আশ্চর্যজনক অমান্যযোগ্য ঘটনা। আল্লাহর কসম! একটি উট একমাস দৌড়ালে মক্কা থেকে সিরিয়ায় পৌঁছবে এবং একমাসে ফিরে আসবে। তাহলে মুহাম্মদ ওখানে একরাতে যেতে ও ফিরে আসতে পারে কি? ফলে বেশকিছু মুসলমান তা অস্বীকার করে কাফের হয়ে যায়। অত:পর লোকেরা আবু বকরের কাছে গিয়ে বলে, তুমি কি তোমার সাথীর ব্যাপারে কোন খবর রাখো? সে তো দাবী করেছে যে, সে আজকের রাতে বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামায পড়েছে এবং আবার মক্কায় ফিরে এসেছে। অত:পর আবু বকর তাদেরকে বলেন, আপনারা কি তাঁকে মিথ্যাবাদী বলছেন? তারা বললো, হ্যাঁ। তুমি গিয়ে দেখো, সে মসজিদুল হারামে বসে এখনো ঐ বর্ণনা শোনাচ্ছেন। তখন আবু বকর বলেন আল্লাহর কসম! তিনি যদি একথা বলে থাকেন তাহলে তিনি অবশ্যই সত্য বলেছেন। তা আপনাদেরকে আশ্চর্যান্বিত করছে কেন? আল্লাহ্র কসম! তিনি তো আমাদেরকেও এমন খবর দেন, যা তিনি আল্লাহ্র তরফ থেকে রাত ও দিনের এক মুহূর্তে আকাশ থেকে যমীনে নিয়ে আসে। অতঃপর সেটাকে সত্য বলে মানি। তাহলে এটা কি আপনাদের বিস্ময়ের বাইরে নয়? তারপর তিনি অগ্রসর হলেন। পরিশেষে রসূলুল্লাহ (স.)-এর কাছে পৌঁছে গেলেন। অত:পর তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী। আপনি কি লোকদেরকে বর্ণনা করেছেন যে, আজকের রাতে আপনি বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়েছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর নবী! তাহলে আপনি এর বর্ণনা দিন আমার কাছে। কারণ, আমি ওখানে অবশ্যই গিয়েছি। অত:পর রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, তখন (আল্লাহ্র তরফ থেকে) বাইতুল মুকাদ্দাসের চিত্র আমার সামনে তুলে ধরা হলো। তাই রসূলুল্লাহ (স.) আবু বকর-এর সামনে তার বর্ণনা দিতে লাগলেন। আর আবু বকর বলতে লাগলেন, আপনি সত্য বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রসূল। পরিশেষে ঐ বর্ণনা যখন শেষ হলো তখন রসূলুল্লাহ (স.) আবু বকরকে বললেন, হে আবু বকর! আপনি সিদ্দীক তথা অতি সত্যবাদী। তাই আজ থেকে তিনি তাঁর নাম রাখলেন সিদ্দীক (তাহযীবু সীরাতি ইবনে হিশাম, ৯১ পৃষ্ঠা)। বিশিষ্ট সাহাবী জা-বির থেকে বর্ণিত। তিনি একবার রসূলুল্লাহ (স.) কে বলতে শুনেছেন, কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলে তখন কাবা ঘরের হিজ্র (তথা হাতীমের) মধ্যে আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। অত:পর আল্লাহ আমার সামনে বাইতুল মুকাদ্দাসকে প্রস্ফুটিত করে তোলেন। ফলে আমি এর চিহ্নগুলোর খবর ওদেরকে দিতে লাগলাম আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত, ৫৩০ পৃষ্ঠা)। আবু হুরাইয়ার বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, আমি হিজরের মধ্যে ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরাইশরা আমাকে মিরাজ ভ্রমণ সম্পর্কে এমন কিছু জিজ্ঞেস করে যেগুলো আমি ভাল করে আয়ত্ত করিনি। তাই আমি এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলাম যে, এর মত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আমি আগে হইনি। অত:পর আল্লাহ আমার সামনে (বায়তুল মুকাদ্দাস) ওটাকে তুলে ধরলেন। আমি ওদিকে চেয়ে থাকলাম। ওরা যে কোন প্রশ্ন আমাকে করতে থাকে তার প্রত্যেকটার উত্তর আমি দিতে থাকলামঃ. (মুসলিম, ১ম খন্ড, ৯৬ পৃষ্ঠা মিশকাত, ৫২৯ পৃষ্ঠা)। বিশিষ্ট সাহাবী ইবনে মাসউদের বর্ণনায় আছে, পৃথিবীর আকাশটি থেকে এর নিকটবর্তী আকাশ ৫শো বছর চলার পথ। তারপর থেকে (৭ম আকাশ পর্যন্ত) প্রত্যেক আকাশের মাঝে পাঁচশো বছর চলার পথ। তারপর ৭ম আকাশের ওপর থেকে পাঁচশো বছর চলার পথ। তার উপরে আছে পানি। পানির উপরে আছে আল্লাহর আরশ। তাতে বসে আছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা (রদ্দুল ইমাম দা-রিমী আল্লাল্ মুরীসী ৭৩ ও ৯০ পৃষ্ঠা)। উক্ত বর্ণনা এবং অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের মাথার উপর থেকে পাঁচ হাযার বছর চলার পথের দূরত্বে আরশের উপরে আল্লাহ বসে আছেন। উক্ত ৫ হাজার বছরের দূরত্বটাকে শেষনবী (স.) মে’রাজের রাতে অর্ধেক রাত ও ফজরের মাঝে কিছুক্ষণের মধ্যে ভ্রমণ করে ফিরে আসেন। যা মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানে অসম্ভব ও অকল্পনীয় ব্যাপার। তাই লোক বলেন যে, মুহাম্মদের (স.) মেরাজ গমনটা কাল্পনিক কাহিনী। সেজন্য বিজ্ঞান ও যুক্তির নিরীখে দেখা যাক যে, রসূলুল্লাহ্র মেরাজ সত্যিই বাস্তবিক, না কাল্পনিক? বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন:- মানুষ আগামী ১০ বছরের মধ্যে এমন উড়োযান তৈরী করবে যার সাহায্যে চাঁদ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হবে। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল। শুধু তাই নয়, বরং মঙ্গলগ্রহ পর্যন্তও পৌঁছানো সম্ভব হবে। যার দূরত্ব সাড়ে তিন কোটি (৩,৫০,০০০০০) মাইল। তাঁরা আরো বলেন, যমীনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণশক্তি তার কাজ শুরু করবে। আর সে দূরত্বটা মাত্র একশো ঘন্টার মধ্যে অতিক্রম করবে।