ফাইভজি নেটওয়ার্কের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২০:৪৬
২০২০ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে ফাইভজি বা পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর জন্য একত্রিত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় বেশকিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। জাপানি মোবাইল টেলিকম অপারেটর এনটিটি ডোকোমো এবং তার সাথে ছয়টি মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে এই নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করার জন্য সম্মত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুতই জাপানের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক পরীক্ষামূলকভাবে চালু শুরু করবে। আর ২০২০ সাল নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। এনটিটি ডোকোমোর সাথে আরও যে ছয়টি মোবাইল কোম্পানি কাজ করছে এই প্রকল্পে তারা হলো—অ্যালকাটেল-লুসেন্ট, এরিকসন, ফুজিতসু, নকিয়া, এনইসি এবং স্যামসাং। পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করার ঘোষণা অবশ্য গত বছরেই দিয়েছিল ডোকোমো। চতুর্থ প্রজন্মের এলটিই নেটওয়ার্কে যেখানে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১৫০ এমবিপিএস, সেখানে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্কের গতি হবে ১০ জিপিবিএস বা সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট। ফলে এই নেটওয়ার্ক এলটিই নেটওয়ার্কের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি গতি প্রদান করবে, যা মোবাইল ডাটার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী হিসেবে বিবেচিত হবে বলে অভিহিত করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। চলতি বছরেই ডোকোমো তাদের ইয়োকোসুকায় অবস্থিত রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এই নেটওয়ার্কের প্রচলন করবে। আর সামনের বছরে আউটডোরে এই নেটওয়ার্ক চালু করবে তারা। পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্কের স্ট্যান্ডার্ড গড়ে তুলতে ২০১৬ সাল থেকে তারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও তাদের গবেষণার তথ্য শেয়ার করবে। এই নেটওয়ার্ক চালু করতে ডোকোমোর সাথে নকিয়া কাজ করবে ৭০ গিগাহার্জ স্পেকট্রাম ব্যান্ডে, মিলিমিটার রেঞ্জের তরঙ্গে। একইসাথে স্যামসাং কাজ করবে ২৮ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ২ কিলোমিটার দূরত্বে ১ জিবিপিএস গতিতে। এর মধ্যে এরিকসন ১৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে, এনইসি ও ফুজিতসু ৩ থেকে ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডে এবং অ্যালকাটেল-লুসেন্ট ৩ গিগাহার্জের নিচের ব্যান্ডে কাজ করবে। এনটিটি ডোকোমোর আগেই অবশ্য পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে টেলিকম, যারা দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এই নেটওয়ার্কের জন্য।