পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের উপর বাড়তি কর আরোপ

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২৩:২৮
পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বাড়তি কর আরোপ করা হবে। পাশাপাশ যারা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়বেন তারা কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত এ তথ্য জানান। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী জানান, কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) আর হবে না। দেশে যখন খাদ্য সংকট ছিলো তখন এটি চালু করা হয়। এখন গ্রামীণ পূর্ত কাজ হবে টাকার বিনিময়ে। তিনি আরো বলেন, দেশে গ্রামীণ সড়কের প্রয়োজন আছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় মহাসড়কের প্রয়োজন নেই। বর্তমান সড়ক ও সেতুগুলোর উন্নয়নে বরাদ্দ থাকবে। তিনি বলেন, আমি সব সময় উচ্চাভিলাসী বাজেট দিই। এবারের বাজেটের আকার শুনে অনেকে বলেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি, কেউ বলেন উচ্চাভিলাসী। তারপরও আমি উচ্চাভিলাসী বাজেট দিই। কারণ এ সরকারের গত সবক’টি বাজেটের ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এর আগে বাজেটের বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশের নিচে। গতকাল প্রাক বাজেট আলোচনায় সরকারি হিসাব, অর্থ ও পরিকল্পনা, নৌ পরিবহন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটি জাতির অগ্রগতি ও উন্নয়ন নির্ভর করে বজেটের উপর। কর আদায় বাড়াতে একটি টাক্সফোর্স গঠনে পরামর্শ দেন তিনি। বাড়ির মালিক, ডাক্তার ও উকিলদের কর ফাঁকি বন্ধ করে করের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। সরকার অবকাঠামো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। ড. রুস্তম আলী ফরাজি এমপি বলেন, বাজেটে জনগণের সুফল নিশ্চিত করতে দুর্নীতি বন্ধ করাসহ স্বচ্ছতা ও দায়বন্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের স্বার্থে অন্যায়, দুর্নীতিকে কোনভাবেই প্রশ্রয় না দিতে অর্থমন্ত্রীকে আনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া আগামী বাজেট পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান তিনি। বাজেট প্রণয়নের আগে দেশের দরিদ্র মানুষের সাথে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, সরকরের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট অনেক উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে। তারা দুর্নীতি করার জন্য দ্রুত অর্থ ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত অর্থ বাজেয়াপ্ত করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যয়ের আহ্বান জানান। একই সাথে এলজিইডির মাধ্যমে এমপিদের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আগামী বাজেটে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। শামসুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দুর্নীতির কারণে গ্রামীণ উন্নয়ন আটকে আছে। স্থানীয় সরকার উন্নয়নে নেয়া এলজিএসপি প্রকল্পের বরাদ্দ চেয়ারম্যান মেম্বাররা ভাগ-ভাটোয়ারা করে খাচ্ছে। গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি বলেন, ধীরে ধীরে কাস্টম ডিউটি শূন্য পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত। শিল্প সুরক্ষায় বাজেটে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকতে হবে। শওকত আলি এমপি বলেন, এমপিও বন্ধের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। এমপিওভুক্তি চালু রেখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। এলজিইডির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, অর্থ সচিব ফজলে কবির, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মেজবাহ উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রমুখ।