ব্র্যাক ব্যাংকের চার কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ১৫ মে ২০১৪, ২৩:৩৩
চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখার চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড গুলশান শাখার কাস্টমার রিলেশন অফিসার মো. আরিফুজ্জামান, একই শাখার ব্রাঞ্চ সেলস ও সার্ভিস অফিসার লায়লা দারাজ, ব্রাঞ্চ কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার মোশারাত পারভীন, এসোসিয়েট রিলেশনশিপ ম্যানেজার এবং ডিপোজিট মবিলাইজেশন ইউনিটের এসএম সাইফুল ইসলাম। দুদকে জমা পড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান শাখার গ্রাহক ‘উর্মি ফ্যাশন গ্যালারি’র হিসাব নাম্বারের পক্ষে ভুয়া ৪টি চেক তৈরি করে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা গত বছরের ২৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এইচএসবিসি ব্যাংকের গ্রাহক এসিআই সল্ট লিমিটেডের হিসাব নম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ টাকা ওই চারটি ভুয়া চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে। পরে এসিআই সল্টের হিসাব থেকে উত্তোলনকৃত এসব টাকা উর্মি ফ্যাশন গ্যালারির হিসাব নাম্বারে জমা দেখিয়ে আত্মসাত্ করে। তারা ওই চারটি নকল চেককে ব্র্যাক ব্যাংকে ডিজিটাল (ইউবিএ) মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষায় সঠিক ঘোষণা দিয়ে টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশেষ পরিদর্শনে আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে। পরে এই টাকা আত্মসাতের প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেয়া হলে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করে কমিশন। আর অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্ত ওই ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সূত্র জানায়। দুদক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে দুদক ওই চেক জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে মানিলন্ডারিং আইন ২০১২ এর ১৪ ধারায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে এই বিষয়টি অবহিত করেছেন। আদালত গত ১১ মে এক আদেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছে।