জানার আছে

ডোর টু হেল

আপডেট : ১৬ মে ২০১৪, ১৯:৩৯
এমন একটা জায়গার কথা চিন্তা করুন তো, যেখানে এক বিশাল গোলাকার গর্তের ভিতরে সবসময় আগুন জ্বলছে। আর এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এই জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে নরকের দরজা। নরকের দরজাটি অবস্থিত তুর্কমেনিস্থানের কারাকুম মরুভূমির দারওয়েজা নামের এক গ্রামের কাছে। নরকের দরজাটি ভয়ংকর সুন্দর লাগে রাতে। তখন অনেক দূর থেকেই জায়গাটা তো দেখা যায়ই, এর শিখার উজ্জ্বলতাও ভালোমতো বোঝা যায়। সেখানকার উত্তাপ এত বেশি যে, কেউ চাইলেও ৫ মিনিটের বেশি সেখানে থাকতে পারবেন না। দরজাটি কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে অবশ্য মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলে, এটা একেবারেই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে। আবার অনেকের মতে, এটা তৈরির পেছনে মানুষের কিঞ্চিত্ হাতও আছে। সেটা অবশ্য বেশিদিন আগের কথা নয়। ১৯৭১ সাল, তখনও তুর্কমেনিস্থান সোভিয়েত রাশিয়ার থেকে আলাদা হয়নি। একদিন সোভিয়েত রাশিয়ার একদল অনুসন্ধানকারী প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান করতে করতে দারওয়েজা এসে পৌঁছুল। তারা প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজ পেয়ে নরকের দরজার জায়গাটা খুঁড়ল। আর ছাদ খোঁড়া শেষ হলেই দেখে ভেতরে প্রায় ২৫ মিটার গভীর গর্ত। আর গোলাকার গর্তের ব্যাস প্রায় ৬০-৭০ মিটার। আর তা থেকে অনবরত উঠছে গ্যাস। পরে তারা বুঝল, গ্যাস কেবল ওই গর্তে আটকে ছিল না, গ্যাস আসছে আরও গভীর কোনো উত্স থেকে। আর তখন কি মনে করে কে জানে, আশপাশের বসতির মানুষগুলোর কথা চিন্তা না করে তারা গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দিল। আর তখন থেকেই নরকের দরজায় অনবরত আগুন জ্বলছে।