কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় তিন পর্বে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১ম পর্ব ১৫ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ। ২য় পর্বে ১৫ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত উখিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া। ৩য় পর্বে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলায় হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে।
১৯৯৭ সালে ১ জানুয়ারির আগে যাদের জন্ম হয়েছে, তাদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনপদ কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বসবাস করছে। এসব রোহিঙ্গারা দীর্ঘকাল যাবত্ স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগে পারিবারিকভাবে তারা স্থানীয়দের সাথে মিশে গেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই বৈবাহিক সম্পর্ক হওয়ায় রোহিঙ্গারা আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগে বার বার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে এদেশের নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টা করছে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার ধারাবাহিকতায় অতিশয় তত্পর হয়ে রোহিঙ্গারা তাদের নিকটতম আত্মীয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয়ভাবে বৈধ-অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য রোহিঙ্গা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়ে তদবীর চালাচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যরা কিছু কিছু রোহিঙ্গাদের আটক করে ফেরত পাঠালেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে।
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা জানান, রোহিঙ্গা নাগরিকেরা যে কোনো মূল্যে ভোটার হতে না পারার বিষয়টি মাথায় রেখে চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন তত্পর রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:সাইফুল ইসলাম জানান, সুপারভাইজর ও গণনাকারীর প্রদত্ত হালনাগাদ ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তা ছাড়াও প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গার নাম কর্তনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
