বিশ্বকাপে ডেঙ্গু জ্বর!

আপডেট : ১৭ মে ২০১৪, ২২:৩৯
বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু সাওপাওলো স্টেডিয়ামের ছাদের কাজ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পুরোপুরি শেষ করা যাবে না বলে জানিয়েছে এর নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। রাস্তায় চলছে বিশ্বকাপ-বিরোধী গণবিক্ষোভ। এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যুর তিনটি শহর ফোরতালেজা, নাতাল এবং রেসিফে ডেঙ্গু জ্বরের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে- বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় জানতে পেরেছেন। শনিবার এক সূত্রমতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ব্রাজিলে এই রোগটি একটি আঞ্চলিক রোগ যা বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের বাইরে হতে আগত ফুটবলার, অতিথি, সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংক্রামক রোগ হিসেবে ইউরোপিয়ান ও ব্রাজিলিয়ান বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জার্নালে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মতামত দিয়েছে। এর ঝুঁকির বিষয়টিও তারা চিহ্নিত করেছে। সাধারণত বৃষ্টিস্নাত এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরের রোগবাহী মশার সংক্রমণ বেশি হয়। আর সেই নিরিখে তারা টুর্নামেন্টের ১২টি স্বাগতিক শহরের উপর জরিপ চালায়। তাদের সেই গবেষণায় বিশ্বকাপ চলাকালীন ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার মতো আশঙ্কা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- খেলা দেখতে আসা সমর্থকরা একটি শহরে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি একটানা থাকবে না। আর তাই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থেকেই যাচ্ছে। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে ব্রাসিলিয়া, কিউরিটিবা, পোর্তো আলেগ্রে এবং সাওপাওলোতে জুন মাসে এই ঝুঁকি কিছুটা কম থাকবে। রিও ডি জেনেইরো, বেলো হরাইজোন্টে, সালভাদোর এবং মানাওসে এই ঝুঁকি মাঝামাঝিতে থাকবে। তারা আরো জানিয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই জ্বরের প্রভাবে ক্ষতিকর কোন প্রভাব চোখে পড়ে না; কিন্ত পাঁচ শতাংশ লোক এর ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এক শতাংশ জীবন ঝুঁকিতে থাকে। এই শতকে অন্য যেকোন দেশের তুলনায় ব্রাজিলে ডেঙ্গুর প্রভাব অনেক বেশি ছিল। ২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সেখানে সাত মিলিয়ন লোকের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। -বাসস/এএফপি