শত অভাব-অনটন ও দারিদ্র্যকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যর মালা পরেছেন অনেকেই। কলারোয়ার হতদরিদ্র আল আমিন বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়ে ডাক্তার হতে চায়। নীলফামারীতে ভ্যানচালক বাবার সাথে কাজ করেও জিপিএ-৫ পেয়েছে হাফিজুল।
এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা)
দিন-মজুরের ছেলে আল আমিন কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। লেখাপড়ার নিশ্চয়তা পেলে ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। আল আমিনের বাবা মো. আবুল কাশেম জানান, তার বড় ছেলে আল মামুন এবার যশোর এম এম কলেজ থেকে অনার্স (ইতিহাস বিভাগ) ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ছেলের এ সাফল্যে তিনি জানান, ‘গরীবের আর চাঁদ দেখা, নুন আনতে যাদের পানতা ফুরায় তাদের আবার আনন্দ!
কিসের। আল আমিন তার প্রিয় স্যার ও সহায়তাকারী বন্ধুদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, লেখাপড়ার নিশ্চয়তা পেলে সে ভবিষ্যতে একজন ভালো ডাক্তার হতে চায়।
নীলফামারী
দারিদ্র্য ও অর্থ সংকট দমিয়ে রাখতে পারেনি নীলফামারীর ভ্যানচালকের সন্তান হাফিজুলকে। চরম অর্থকষ্টের মাঝেও হাফিজুল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দারিদ্র্যে সাথে লড়াই করে এসএসসি পাস করলেও উচ্চশিক্ষার বিষয় নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাফিজুল।
সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রিকশা ভ্যানচালক এমদাদুল হকের তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে হাফিজুল সবার ছোট। দরিদ্রতা আর অর্থাভাবে বড় ছেলে ও মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি এমদাদুল হক কিন্তু তার মেজো এবং ছোট ছেলের মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে কষ্ট করে তাদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। হাফিজুল ডাক্তার হতে চায়। এজন্য পড়তে চায় ভালো কোন কলেজে কিন্তু ভ্যানচালক পিতা পারবে কি তার সে সাধ পূরণ করতে?
