মাত্র দশ বছর আগেও খোদ বেলজিয়ান কোন সমর্থকও হয়তো বিশ্বাস করতেন না, বিশ্বকাপ শিরোপা কে জিতবে সেই প্রশ্নে পঞ্চম ফেভারিট দলটির নাম বেলজিয়াম। তবে বাজি আয়োজনকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ফেভারিটদের তালিকায় সম্প্রতি জানা গেছে এমনটাই। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে বেলজিয়ান খেলোয়াড়দের উপস্থিতি আর আর বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স ব্রাজিল বিশ্বকাপের ডার্ক হর্সদের তালিকায় সবার সবার উপরে তুলে এনেছে মার্ক উইলমর্টের দলটিকেই।
বিশ্বকাপে কোন দল কতটা শক্তিশালী সেটা পরিমাপের একটা সহজ উপায় হচ্ছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছে দলে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা কেমন। আর সেটাই যদি বিবেচ্য হয়, তাহলে বেলজিয়ামকে কেন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও জার্মানির পর পঞ্চম ফেভারিট হিসাবে ধরা হচ্ছে সেটা বুঝতে খুব একটা কষ্ট হবে না। গত তিন বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপাজয়ে নেতৃত্ব দেয়া ভিনসেন্ট কোম্পানি আছেন বেলজিয়ামের অধিনায়কের ভূমিকায়। আছেন সদ্যই এফএ কাপের শিরোপা জেতা আর্সেনালের অধিনায়ক টমাস ভারমালেনও। এই মৌসুমে চেলসির হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটানো ইডেন হ্যাজার্ডের হাতে থাকবে জাতীয় দলের মিডফিল্ড সামলানোর দায়িত্বও। আবারো জাতীয় দলের জার্সি চড়াতে প্রস্তুত চেলসি থেকে ধারে যথাক্রমে এভারটন ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলতে থাকা স্ট্রাইকার ও গোলরক্ষক রোমেলো লুকাকু ও থিওবট কোর্তেও। আর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিতে যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ তুর্কি আদনান জানুজাজ। গত মাসে জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা ব্যক্ত করার কয়েকদিন পরেই ১৯ বছর বয়সী এই তরুণকে দলে ডেকেছেন কোচ উইলমর্ট। নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ দলে থাকছেন ইউনাইটেডের আরেক বেলজিয়ান তারকা মাউরেন ফেলানিও।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার বাইরে ইউরোপের আরেকটি জনপ্রিয় লিগ বুন্দেসলিগারও চলতি মৌসুমের আলোচিত খেলোয়াড়দের তালিকায় আছেন দুই বেলজিয়ান। বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল ফন বুয়েটেন এবং উলফসবার্গের কেভিন ডি ব্রুইন আছে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠ মাতানোর অপেক্ষায়। ইউরোপিয়ান লিগগুলোয় বেলজিয়ানদের এই উত্থানই ফুটবলে বেলজিয়াম বিপ্লব আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বুয়েটেন, ‘আমরা ভালো একটা প্রজন্ম পেয়েছি। যারা দেশের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তারা নিয়মিতই সুযোগও পাচ্ছে। এই বিষয়টিই আমাদের শক্তিমত্তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা হঠাত্ করেই দেশের বাইরে খেলতে শুরু করেছে। তারা আসলে জার্মানিতে খেলতেই অভ্যস্ত ছিল।’
মেক্সিকোতে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালেই পৌঁছানোই এখন পর্যন্ত ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নিজেদের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে আছে বেলজিয়ামের। মাত্র দ্বিতীয় বেলজিয়ান হিসাবে গত বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া বুয়েটানের বিশ্বাস এবার সুযোগ সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করার। ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া এবং স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক গ্রুপে বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করার বিষয়টাই এখানে আশা যোগাচ্ছে বুয়েটানকে। তাই বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এইচ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার কোন কারণ দেখছেন না বুয়েটান। আর বিশ্বকাপ যাত্রাকে দীর্ঘায়িত করতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবার বিকল্প নেই বেলজিয়ামের। কারণ রানার্স আপ হলে শেষ ষোলোতে শক্তিশালী জার্মানির মোকাবেলা করতে হবে তাদের।
এদিকে স্বপ্নের বিশ্বকাপ মিশনে ইডেন হ্যাজার্ডকে মূল হাতিয়ার মানছেন দলের সাবেক কোচ লেনকিন্স। লন্ডনের ইভিনিং স্টান্ডার্ড দৈনিককে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘চেলসি ম্যানেজার তার কাছ থেকে শুধু গোল চায়নি। চেয়েছে গোল দেয়ায় অন্যকে সহায়তাও। পাশাপাশি তার রক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল। বিশ্বকাপটা হবে তার নিজেকে প্রমাণের আসল জায়গা। আমার বিশ্বাস দুর্দান্ত কিছুই উপহার দেবে সে। ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা লিভারপুলের মতো দলগুলোর বিরুদ্ধে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে বড় দলগুলোকে থামিয়ে দিতে প্রস্তুত সে। মেসি-রোনালদোদের সমপর্যায়ে যাবার ক্ষমতা আছে তার। আমার বিশ্বাস, বিশ্বকাপের পর মানুষ তাদের সাথে ওর তুলনা করার প্রবণতাটা বাদ দেবে এবং সে আসলে কোন মানের খেলোয়াড় সে নিয়ে আলোচনা করবে।’
