বিচিত্র এই পৃথিবী, তারচেয়েও বিচিত্র এই পৃথিবীর মানুষ। দেশভেদে মানুষের চরিত্রও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কোনো দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয় তার নাগরিকদের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এবং সেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ প্রায় একই রকম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে। কোনো দেশের মানুষ অল্পতেই সুখি, আবার কোনো দেশের লোকজন প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েও সুখি হতে পারেনি, বৈচিত্র্যের অভাবে প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছে। কোনো দেশের মানুষ শান্তিকামী, আবার কোনো দেশের মানুষের সহিংস আচরণের কারণে সেদেশে টেকা দায়। এমনই কিছু দেশের কথা তুলে ধরবো আজ।
সবচেয়ে সুখি দেশ কলম্বিয়া
ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মানুষেরা অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। শত অভাবের মাঝেও যে সুখি থাকা যায়, এই অঞ্চলের মানুষেরা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। সবসময় যেন মুখে তাদের হাসি লেগেই থাকে। কি খাওয়া-দাওয়া, কি খেলাধুলা- তাদের সবকিছুতেই থাকে একটা উত্সবের আমেজ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা উইন/গলআপ পরিচালিত এক জরিপে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষের দেশ হিসাবে কলম্বিয়ার নাম উঠে এসেছে। তৃতীয় স্থানে ব্রাজিল এবং অষ্টমে আছে পেরু। বিশ্বের ৫৪ দেশের মধ্যে ঐ জরিপ পরিচালিত হয়। ল্যাটিন আমেরিকার মানুষেরা যে কতটা প্রাণবন্ত তার প্রমাণ তো আমরা পাই চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলেই। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও শৈল্পিক ফুটবল ছাড়া বিশ্বকাপ মোটেই জমেই না।
সবচেয়ে অসুখি দেশ ফ্রান্স
প্রচুর অর্থ থাকলেই যে সুখি হওয়া যায় না, তার প্রমাণ ফ্রান্স। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা বিভিএ-গলআপ বিশ্বের সবচেয়ে অসুখি মানুষের দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার প্রথমেই রয়েছে ফ্রান্সের নাম। শুধু অসুখি নয়, সবচেয়ে হতাশাগ্রস্ত মানুষের দেশ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয় ফ্রান্সকে। মজার ব্যাপার হলো, ঐ জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে অসুখি ও হতাশাগ্রস্তদের অধিকাংশই সম্পদশালী ইউরোপের বাসিন্দা। অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র মানুষেরাই তুলনামূলকভাবে বেশি সুখি। অর্থই যে অনর্থের মূল- একথাটি প্রমাণিত হলো আবারও।
নারীদের জন্য সেরা দেশ: নিউজিল্যান্ড
দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা বিষয়ক একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যার প্রথমেই আছে নিউজিল্যান্ডের নাম। কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের পরিমাণ, পুরুষ শ্রমিকের সাথে মজুরির পার্থক্য, উচ্চ পদে নারী কর্মী নিয়োগের পরিমাণ, নারীদের মজুরি নির্ধারণে শিশু প্রতিপালনের ব্যয় ধরা হয়েছে কিনা- ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা সাপেক্ষে নিউজিল্যান্ডই নারীদের বসবাসের জন্য আদর্শ দেশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখানেই কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমঅধিকারের বিষয়টি সবচেয়ে নিশ্চিত হয় বলে ইকোনমিস্টের জরিপে দেখা গেছে। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। নারী শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ সাউথ কোরিয়া ও জাপানে। এসব দেশে উচ্চ পদে কর্মরত নারীর সংখ্যা খুবই কম।
সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ: আইসল্যান্ড
ইয়েল ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সম্প্রতি বিশ্বের ১৬৩টি দেশে পরিবেশ বিষয়ক এক জরিপ চালায়, যাতে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে আইসল্যান্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পানি ও বাতাসের গুণগতমান, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উপর পরিবেশের প্রভাবসহ মোট ২৫টি বিষয় বিবেচনা সাপেক্ষে পরিচ্ছন্ন দেশগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়, যার মধ্যে ১০০তে ৯৩.৫ নম্বর পেয়ে আইসল্যান্ড তালিকার প্রথম স্থানটি দখল করে। সিয়েরা লিয়ন ৩২ নম্বর পেয়ে তালিকার শেষে অবস্থান করে। আর যুক্তরাষ্ট্র ৬৩.৫ নম্বর পেয়ে তালিকার মাঝে স্থান পায়।
