এখনো বন্ধ হয়নি গৃহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শিশুদের ওপর এই শাস্তি বন্ধে খসড়া শিক্ষা আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
গতকাল বুধবার বিকালে ফার্মগেইট এলাকায় ডেইলি স্টার ভবনের এ এস মাহমুদ সেমিনার হলে ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে কর্মসূচির বেইজলাইন সমীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল ও করণীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
আয়োজক সংগঠন দুটি ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের উপর শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিরসনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এই কর্মসূচির অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, মৌলভীবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী এলাকার কয়েকটি উপজেলা ও ইউনিয়নে এই সমীক্ষা চালানো হয়।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, না পিটিয়েও যে বাচ্চাদের শেখানো পড়ানো যায়, সেটা বিশ্বাসের জায়গায় আনতে হবে। আমাদের বাচ্চাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই ৪টা পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হয়, এটা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ৫ম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই, সেটা বোঝাতে আমাদের ৫ বছর গবেষণা করে বোঝাতে হয়েছে। এসবের কারণে বাড়ছে কোচিং বাণিজ্য।
দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন থাকলেই চলবে না। অভিভাবকদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে, সচেতন হতে হবে। পরিবর্তনটা আসতে হবে পরিবার, সমাজ, স্থানীয় সরকার পর্যায় থেকে। তিনি বলেন, আমরা শিশুদের ওপর যৌন হয়রানি বন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শ্রম বাজারেও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে একটা শিক্ষা নীতি করতে পারলে হয়তো পরিবর্তন আসতো।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নুরুন্নাহার ওসমানী বলেন, পরিবারে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে যুক্ত করে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার।
আইন কমিশনের সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা তাহসিন ইফতেখার বলেন, আমরা একটা আমব্রেলা করার চেষ্টা করছি, যেখানে শিশুদের জন্য সব ধরনের সুবিধাগুলো একসঙ্গে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্লাস্টের প্রধান আইন উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. নিজামুল হক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং গৃহে শিশু নির্যাতনের গবেষণা দিয়ে আমাদের কাজ শুরু। সারা দেশে শিশুদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, সেখানে আমাদের কাজ করতে হবে।
আরো বক্তব্য রাখেন— ইনিসিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আমিরুল হক, একশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন— ব্লাস্টের পরিচালক ও আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আর্কেড ফাউন্ডেশনের কনসালটেন্ট সালমা আক্তার।
