কদিন আগেই নিজেকে বার্সেলোনার জন্য অযোগ্য বলে মত দিয়ে দিয়েছিলেন। আর শেষ ম্যাচে এসে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাথে ঘরের মাঠে মনমত ফল না পাওয়ায় পদত্যাগই করে বসলেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। আর এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো কাতালান ক্লাবটির এক বছরের মার্টিনো অধ্যায়ের।
সপ্তাখানিকের মধ্যেই বার্সেলোনা তাদের নতুন কোচের নাম ঘোষণা করবে। আর সব কিছু ঠিক থাকলে সেই কোচ হতে যাচ্ছেন লুইস এনরিক। সেল্টা ভিগোর বর্তমান কোচ খেলোয়াড়ী জীবনে বার্সেলোনার হয়ে খেলার পাশাপাশি কোচিং করিয়েছেন বার্সেলোনার ‘বি’ দলকেও।
গত শনিবার রাতে লা লিগার শেষ রাউন্ডের ম্যাচে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে নু ক্যাম্পে ১-১ গোলে ড্র করে বার্সেলোনা। আর এর মধ্য দিয়ে লা লিগার শিরোপা জয় করে মাদ্রিদের ক্লাবটি। আর এই ম্যাচের পরই বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে দেন জেরার্ডো মার্টিনো, ‘বার্সেলোনার সাথে আমি একটা সমঝোতায় আসতে পেরেছি। আর এর মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হল যে- আমি আর ক্লাবটিতে থাকছি না। ক্লাবটি যে উদ্দেশ্যে আমাকে এনেছিল, আমি তার কিছুই করতে পারিনি।
লা লিগার শিরোপা জয়ী দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একদম শেষ অবধি চেষ্টা করেছি; কিন্তু শেষের লড়াইটা ছিল আমাদের চেয়ে ভাল একটা দলের বিরুদ্ধে। আমি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে তাদের কৃতিত্বের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই।’
গত মাসখানেক ধরেই জেরার্ডো মাটির্নোকে নিয়ে কানাঘুষা চলছিল। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার তিনি নিজেই ইতি টেনে দিলেন। শেষ বেলায় বার্সেলোনা ক্লাবের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব শেষে, এই সময়টাতে যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের প্রতি আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ধন্যবাদ।’
৫১ বছর বয়সী এই বার্সেলোনায় আসার আগে আর্জেন্টিনার নিওয়েল ওল্ড বয়েজ ও প্যারাগুয়ে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। টিটো ভিলানোভার বিদায়ের পর গত গ্রীষ্মে তিনি বার্সেলোনা দলের দায়িত্ব নেন। কাতালানদের হয়ে তার শুরুটাও খুব খারাপ ছিল না; কিন্তু গত ডিসেম্বরে অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের বিপক্ষে হারের পরই শুরু হয় তার খারাপ সময়। এরপর থেকে মৌসুমের শেষার্ধও চলে সেই বাজে পারফরম্যান্স।
যদিও বার্সেলোনার পদ ছাড়লেও নতুন চাকরি খুঁজে পেতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না মার্টিনোকে। ধারণা করা হচ্ছে- বিশ্বকাপের পরই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব নিবেন তিনি। এছাড়া লা লিগার দল মালাগাও তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
