আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিগ্রাম শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘরের উদ্যোগে বিভিন্নভাবে গাছ থেকে ঝরেপড়া আম থেকে নানারকমের সুস্বাদু আচার তৈরি করতে গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধ করে সংগঠিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে গ্রামের বেশিরভাগ নারী এখন তৈরি করছেন আমের নানারকম আচার ও আমের রকমারি খাবার। এতে একদিকে যেমন ঝরেপড়া আমগুলো নষ্ট হচ্ছে না, অন্যদিকে এসব আচার খাবারের ফলে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলার মান্দা উপজেলার কালিগ্রামের শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিভিন্ন সময় যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সারাদেশে এরইমধ্যে সুখ্যতি অর্জন করেছে। এই পাঠাগারের উদ্যোক্তা রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম শাহ চৌধুরী ঝড়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে গাছ থেকে ঝরেপড়া আমগুলো কুড়িয়ে নানারকমের আচার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন গ্রামীণ নারীদের। কালিগ্রামের প্রতিটি বাড়ির নারীরা এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তৈরি করছেন হরেকরকমের আচার। এসব আচার প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেন তিনি।
গ্রামের গৃহিণী মৌসুমী চত্রবর্তী, ছাত্রী তানিয়া খাতুন ও গৃহিণী হালিমা খাতুন বলেন, ‘এই কৃষি তথ্য পাঠাগার ও জাদুঘর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চিনিতে আমের সন্দেশ, আমের জুস, আমের রস মালাই, আমের চমচম, আমস্বত্ব, আমচুর, আমের নবাবী, আমে বরই, আমের চচ্চড়ি, ডুবো আম ইত্যাদিসহ প্রায় শতাধিক প্রকার আমের আচার ও আমের বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে শিখেছি।’ এখন এই মৌসুমে তাঁরা প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এসব আচার তৈরি হচ্ছে। এই কৃষি তথ্য পাঠাগারের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম শাহ এবং জোসনা বেগম নামের এক সদস্য রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটে আমের আচার ও বিভিন্নরকমের সুস্বাদু খাবার তৈরি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা কালিগ্রামের গৃহিণীদের এই প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
গ্রামের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি প্রায় ৮০ বছর বয়সের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের এমন উত্সবমুখরভাবে আচার তৈরি করতে এবং তা প্রদর্শনীর মাধ্যমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা এলাকায় আমার বয়সে এই প্রথম দেখলাম। এর আগে এমন কোনো উদ্যোগ আমি দেখিনি।’
উদ্যোক্তা শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জানান, এই উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এলাকার কোথাও আমগাছের নিচে আর পরিত্যক্ত আম পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে না। সব আম কাজে লাগিয়ে আচার তৈরি করেছেন নারীরা। এই উদ্যোগ এক সময় বাণিজ্যিকীকরণ হিসেবে পরিগণিত হবে বলে মনে করেন তিনি।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এফ এম গোলাম ফারুক বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন ঝরেপড়া আমগুলো নষ্ট হচ্ছে না, অন্যদিকে বিভিন্ন ধরন আচার ও আমের সুস্বাদু খাবার মানুষের পুষ্টির বিশেষ চাহিদা পূরণ হচ্ছে। বর্তমানে তাঁদের তৈরি আচার ও খাবার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। এটা অর্থনৈতিক আয়ের একটি বড় দিক হতে পারে, যা এসব গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
