রাজশাহীর তানোরে হতদরিদ্রের মেয়ে সুমিতা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিমুল পেয়েছে জিপিএ-৫। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
উপজেলার ছাতকছড়া গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক পরিবারে ২০০০ সালে জন্মগ্রহণ করে সামসুদ্দীন শিমুল। জন্মগত পঙ্গু না হলেও ৫ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় গাছ থেকে পড়ে কোমরের নিচসহ দুই পা অবচেতন হয়ে এক পর্যায়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়। চার ভাই বোনের মধ্যে শিমুল সবার বড়। বাবা কৃষি কাজ করেন। ছোট বেলা থেকেই শিমুলের লেখাপড়ার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। সকল শ্রেণিতেই সে প্রথম হয়েছে। পঙ্গুত্বকে নিয়তির লিখন মনে করে নিজেকে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি সে। শিমুলের বাবা নিজে হুইল চেয়ারে করে তাকে টেনে নিয়ে আসতেন স্কুলে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস করার সাথে সাথে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী ছাত্র সামসুদ্দিন শিমুল।
রাজশাহী
অভাব তার আজন্ম সঙ্গী। শত অভাব সত্ত্বেও দরিদ্রতার কাছে হার মানেননি সুমিতা দাস। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তানোর পৌরসভার আকচা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় অংশগ্রহণ করে সুমিতা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এ ফলাফল এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সন্তানের এ সাফল্যে বেজায় খুশি হতদরিদ্র বাবা বুরুজ গ্রামের অনিল চন্দ্র দাস ও মা কল্পনা রানী দাস। সুমিতার মা জানান, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সুমিতা সবার ছোট। মাটির একটি মাত্র কুঁড়েঘর। বাড়িতে বিদ্যুত্ নেই। হারিকেনের আলোয় সুমিতা রাত জেগে পড়ালেখা করেছে। প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য ছিল না। মেয়েকে শহরের ভালো কলেজে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে কী না জানি না।
