নাজমুল হাসান
যেকোনো বাংলাদেশির জন্য এটি গর্বের বিষয়। কোনো আড্ডায় গর্বের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে বলা যেতে পারে—‘জানিস? নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকারের অ্যাসেম্বলি-ওম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে এক বাংলাদেশি লড়ছে!’
তিনি বাংলাদেশি নারী মেরি জোবায়দা। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিজয়ী হলে মেরি জোবাইদা যাবেন নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনির প্রতিনিধি সভায়। প্রতিনিধিত্ব করবেন নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট ৩৭-এর। এই প্রার্থীতার মধ্য দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন নিউইয়র্কের পশ্চিম কুইন্স থেকে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাথরিন নোলানকে।
গত ৩৫ বছর ধরে সেখানকার সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন ক্যাথরিন নোলান। এমনকি গত এক দশকে কেউ প্রাথমিক নির্বাচনে চ্যালেঞ্জটুকুও জানায়নি। ১০ বছরে এবারই প্রথম ক্যাথরিন নোলান প্রাথমিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন। তিন সন্তানের মা মেরি জোবাইদাকে উদ্ধৃত করে একটি সংবাদমাধ্যম বলেছে, নিজের ডিস্ট্রিক্টে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চান তিনি।
নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে জোবাইদা বলেন, ‘যেহেতু এটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনী মঞ্চ সেহেতু দীর্ঘদিন যাবত্ মাত্র একজনের নামে ব্যালট থাকতে পারে না। জনগণ নতুন কাউকে চায়, সবাই আমার পাশে থাকবে আমি এই আশাই ব্যক্ত করছি।’ জোবাইদা আরো বলেন, ‘এ দেশ আমাকে এত বেশি দিয়েছে যে, আমার মন থেকে আমি এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। ভোট দিতে গিয়ে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি দেখে আমার মনে হলো এখান থেকেই শুরু হতে পারে।’
নিউইয়র্কের কোর্ট স্কয়ারের গত দুই দশক ধরে বাস করছেন মেরি জোবাইদা। সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিডিয়া, কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশনসে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে সাংবাদিকতার পাশাপাশি সেবামূলক বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন মেরি জোবাইদা। কমিউনিটির পাশাপাশি মূলধারায়ও তাঁর কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন অনেকে। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে আরবান হেলথ প্ল্যানের আউটরিচ স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।
এর আগে প্যানোরামা বাংলাদেশের ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজার, নিউইয়র্কে বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টাইম টিভির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার ফিচার রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংগঠনিক সক্ষমতা অর্জন করেছেন মেরি জোবাইদা।
লাগর্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ (কিউনি)-এর স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি ও এপিআই লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও নিউইউয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির কমিটি ফর চাইল্ড কেয়ারের সিনেটর ছিলেন মেরি জোবাইদা। নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়ার আগে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন মেরি জোবাইদা। তিনি বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার সন্তান।
নিজেকে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে উল্লেখ করে মেরি জোবাইদা বলেন, ‘আমি মানুষের শক্তি আবারো মানুষের কাছে ফেরত দিতে চাই।’
জোবাইদার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা সংশয়ে আছেন নোলান। গতবছরই নোলান এই অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানকার বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই নির্বাচনে যদি জোবাইদা জয়ী হয় তাহলে অনেক রাজনীতিবিদ একটু হোঁচট খেতে পারেন। কারণ ক্যাথরিন নোলানের এমন শক্ত অবস্থান নড়বড়ে করতে জোবাইদার এই নির্বাচনে জয়ই যথেষ্ট।
