বিতর্কের কাণ্ডারি

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২০:২০
‘আজ আমরা নিজেরাই উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। একটা ভিন্ন মত মেনে নেয়ার পরিবেশই পারে আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে। এক্ষেত্রে যৌক্তিকতার জয়ে বিতর্ক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।’ কথাগুলো বলছিলেন বিতার্কিক দেবাংশু শুভ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে দেখা মিলল তার সঙ্গে। কথা হয় তার বিতার্কিক হয়ে ওঠার পেছনের গল্প কেমন ছিল। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় উপজেলা আন্তঃস্কুল উপস্থিত বক্তৃতায় পর পর দু’বার প্রথম হন তিনি। সেই থেকেই বিতর্ক যেন তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলেন। একের পর এক সাফল্য তাকে দারুণভাবে প্রেরণা জোগাতে থাকে। তার জীবনের স্মরণীয় অর্জন ২০১৩ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে নেয়া। ২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৩ সালে চুয়েট, ২০১১ সালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ২০১২ সালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তার দল চ্যাম্পিয়ন ও তিনি সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন। আর ২০১১ সালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দল রানার্সআপ হলেও তিনি হন সেরা বিতার্কিক। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং অর্গানাইজেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এই ক্লাবটি একের পর এক সাফল্য লাভ করতে থাকে। বর্তমানে তিনি প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া গ্রামে। ভবিষ্যতে নৃ-বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা। তিনি চান বিতর্ক চর্চা বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে ছড়িয়ে যাক।