সকাল সকাল ঢোল এর শব্দে ঘুম থেকে উঠে সবাই জড়ো হতে থাকে গোল চত্বরে। আস্তে-আস্তে এই উপস্থিতি যেন পরিণত হয় জন সমুদ্রে। সবার মধ্যেই ছিল উত্সবের আমেজ। এই জনসমাবেশে যোগদেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলীও। সবার উপস্থিতিতে কেক কাটার মাধ্যমে উদ্বোধন হয় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম(০৯) ব্যাচের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাসমাপনী উত্সব তথা র্যাগ ডে অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হযরত আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আশুতোষ সাহা, ড. মো. আব্দুল ওয়াজেদ এবং মো. মইনুল ইসলাম প্রমুখ।
গত ১৪ মে বুধবার ছিল র্যাগের প্রথম দিন। কেক কাটার পর সবাই উপস্থিত হয় গোলচত্বর সংলগ্ন বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল একই রকম টি-শার্ট পরা একদল ছেলেমেয়ে। হঠাত্ ডিজে সাউন্ড-এর সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় নতুন ধারার ফ্লাস মব নৃত্য। ফ্লাস মব শেষ না হতেই উপস্থিত অংশগ্রহণ করে এই ফ্লাস মবে। বাস্কেটবল মাঠের চারপাশে রাখা ছিল ড্রাম ভর্তি রং। ডিজের সাথে সাথে চলতে থাকে রং খেলা। চার বছরের বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যেন এই রং খেলার মাঝে। বিভিন্ন রংয়ে রাঙ্গিয়ে বন্ধুকে যেন জানান দেয় ,জীবনযুদ্ধে বন্ধু কখনও মলিন হবে না, থাকবে চির রঙ্গীন। এদিন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ইত্যাদি। রাতে অডিটোরিয়ামে ছিল ডিজে পার্টি। বৃহস্পতিবার সকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বাসে করে শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে শিক্ষার্থীরা। নগরীর ওয়াসার মোড় থেকে আই ই বি পর্যন্ত র্যালি করে শিক্ষার্থীরা জনান দেয় যে তাদের শিক্ষা জীবন শেষ হতে চলেছে। আই ই বি তে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন র্যাগ কমিটির আহবায়ক মো: আব্দুর রহমান। এ সময় তিনি শিক্ষাজীবন শেষ করতে সহযোগিতা করায় দেশের সকল মানুষকে ধন্যবাদ জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শুক্রবার ছিল এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ কনসার্ট। আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, শিরোনামহীন, অর্থহীন। কনসার্টে আরো অংশ নেয় চট্টগ্রামের কয়েকটি নামকরা ব্যান্ডসহ চুয়েটের শিক্ষার্থীদের গড়া দলগুলোও। চুয়েটের বিভিন্ন ব্যান্ডদল শুরুতে ঝড় তুলে ড্রামে, কী-বোর্ডে, ডেকে উঠে গিটারও। এরপর চট্টগ্রামের নামকরা কয়েকটি ব্যান্ডও দর্শক মাতিয়ে দেয়। অতঃপর বাজিমাত করে ঢাকা থেকে আগত তিনটি ব্যান্ড। মাঝরাতে মঞ্চ মাতিয়ে দেয় শিরোনামহীন। ‘তুমি আছো তাই...’ গানের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় হাজারো দর্শক। তুহিনের মায়াবী কণ্ঠ তৈরি করে ইন্দ্রজাল। রাত গভীর হলে মঞ্চে হাজির হয় ওয়ারফেজ। হতাশা, নেই প্রয়োজনসহ নিজেদের জনপ্রিয় সব গান দিয়ে টানা পরিবেশনা চালিয়ে যায় এই হার্ডরক ব্যান্ড গ্রুপ। সাকিব, জামশেদরা নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেন বিপুল দর্শকের মাঝে। ভোর নেমে এলে মঞ্চে উঠে আসে সুমনের অর্থহীন। ভোরের আকাশে ছড়িয়ে যায় ‘এক মুঠো গোলাপ, আর ওই নীল আকাশ...’।
সকালের আবছা আলোয় যখন চুয়েটের প্রকৃতি ফুটে ওঠে, মনে হতে থাকে অনেক দূরে চলে এসেছি, আর বেশিদিন থাকা হবে না এই প্রিয় ক্যাম্পাসে।
