সাইবার অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার চীনের

আপডেট : ২০ মে ২০১৪, ২০:২৩
অনলাইনে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগের তীর এফবিআই তাক করেছিল চীনের পাঁচ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চীনের এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে সমনও জারি করা হয়। তবে খুব দ্রুতই মার্কিন এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছে চীনা সরকার। শুধু তাই নয়, উল্টো মার্কিন প্রশাসনই যে নানা ধরনের সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত, সেই অভিযোগও উত্থাপন করেছে তারা। মার্কিন সরকার এক্ষেত্রে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ দেখিয়ে আসছে বলে অভিহিত করেছে চীন। মার্কিনিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চীনের এই পাঁচ সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন পাঁচটি কর্পোরেশন এবং একটি লেবার ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন গোপন নথিপত্র চুরি করেছে। অনলাইন অপরাধের আওতায় তারা ব্যবসার গোপন বিষয় এবং অভ্যন্তরীণ অনেক ফাইলই হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানায় এফবিআই। ব্যবসা ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা অর্জনের জন্যই এই ফাইলগুলো চুরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে এই অভিযোগ পুরোটাই অস্বীকার করেছে চীন। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন সরকার এবং সামরিক বাহিনী কখনই কোনো ধরনের সাইবার গোয়েন্দাগিরির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না এবং এখনও নেই।’ বরং মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেই সাইবার স্পেসে গোয়েন্দগিরি করা হয়ে থাকে—এমন অভিযোগ করে এই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দীর্ঘ সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে বিভিন্ন দেশের ওপর নজরদারি করা হয়েছে। সারা পৃথিবীর সকলেই এটা জানে যে তারা বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নজরদারি করে আসছে। উইকিলিকস এবং অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা বিভিন্ন নথি থেকে এটি স্পষ্টতই দেখা গেছে যে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে তারা দ্বৈত নীতি অবলম্বন করে থাকে।’ চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এও বলা হয়েছে যে চীনের সামরিক বাহিনীর ওপর যেসব অনলাইন আক্রমণ এখন পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে, তার বড় একটি অংশই করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইপি ঠিকানা থেকে। গত মঙ্গলবার চীনা সংবাদমাধ্যম জিনহুয়ার একটি রিপোর্টেও বলা হয়, চীনের প্রায় ১.৮ মিলিয়ন কম্পিউটারকে যুক্তরাষ্ট্রের ২,০৭৭টি কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এমন আচরণ চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।