অন্যের জমিতে কাজ করে গোল্ডেন এ প¬াস পেয়েছে হোসেনপুরের আনিছ। আর দিনমজুরির কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে তারাগঞ্জের শাহিনুর। এসব দরিদ্র মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের সংবাদদাতারা।
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
উপজেলার টানসিদলা গ্রামের দিনমজুর পিতা আফাজ উদ্দিনের পুত্র মো: আনিছুর রহমান এবারের এসএসসি পরীক্ষায় হোসেনপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্ল¬¬াস পেয়েছে। দারিদ্র্যতা তার মেধার বিকাশ রুখতে পারেনি। বড় ভাই এসএসসি পাস করে বেকার। পিতার সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। ক্ষেত-খামার ও রাস্তায় মাটি কেটে কোনোমতে সংসার চালান। তাইতো পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছে আনিছ। প্রাথমিক ও জেএসসি পরীক্ষাতেও সে মেধাবৃত্তি পেয়েছে। আনিছ জানায়, ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু অর্থাভাবে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন সফল হবে কি না তা সে জানে না ।
তারাগঞ্জ (রংপুর)
অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহিনুর ইসলাম। এ সাফল্য অর্জন করার পর পড়ালেখা চালিয়ে নেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শাহিনুর ও তার বাবা মা। বাবা উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর রামপুরা গ্রামের আলাউদ্দিন। অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করে যে টাকা উপার্জন করে তা দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে। শাহিনুরের মা অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সংসারে সহযোগিতা করেন। শাহিনুর মাঝে-মধ্যে দিনমজুরী করে উপার্জিত টাকায় বই খাতা কলম ও জামা কাপড় কিনেন। এমতাবস্থায়, পরিবারের পক্ষে তার পড়ালেখার ব্যয়ভার সম্ভব নয়। শাহিনুরের বাবা আলাউদ্দিন আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশে অনেক হূদয়বান ব্যক্তি ও সংস্থা রয়েছে তারা যদি আমার ছেলের পড়ালেখার দায়িত্ব নেন তাহলে মরেও শান্তি পাব।
