আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২২:১৩
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা \ দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে মেধা যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতাকে পুঁজি করে নাগেশ্বরীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থী এবারে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরা কেউ ভূমিহীন, বর্গাচাষী, দিনমজুর ও রিকশাচালক বাবার সন্তান। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার ও শিক্ষক হয়ে সেবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এদের ভবিষ্যত্ নিয়ে শংকিত অভিভাবকরা। মজনু: ভূমিহীন বাবা শাহাদত হোসেন রিকশাচালক। মা মঞ্জু বেগম ঝি-এর কাজ করেন। সামান্য আয়ে চলে না টানা-পোড়েনের সংসার। তাই পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও লেখাপড়ায় ইতিটেনে দিনমজুরি করতে হয় মজনু মিয়াকে। বিষয়টি জানতে পেয়ে বেরুবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক তাকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করায়। মজনু এবারে বেরুবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মোরশেদ: পশ্চিম বেরুবাড়ী গ্রামের রিকশাচালক আব্দুর রশিদের একমাত্র পুত্র মোরশেদ আলম স্বপ্ন দেখেন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। এবারে বেরুবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সে একধাপ এগিয়ে গেলেও ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত তার পরিবার। নাজমা আক্তার: নেওয়াশী গোবর্ধনকুটি খোয়া ডারার পাড় গ্রামের প্রান্তিক বর্গাচাষী হয়রত আলীর ৩ মেয়ে। নিজের চেষ্টা, নিষ্ঠা, একাগ্রতায় জাগরনী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মেজ মেয়ে নাজমা আক্তার। সে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকতা করতে চায়। ফাহিমা আক্তার: হীরারভিটা গ্রামের দিনমজুর মকবুল হোসেনের নিজের জায়গা জমি নেই। অন্যের জায়গায় মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই মিলেছে। সেখানেই কুপির আলোতে রাত জেগে পড়ালেখা করেছে মেয়ে ফাহিমা আক্তার। জাগরনী বহুমুখী বালিকা বিদ্যা বীথি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিয়েছে ফাহিমা আক্তার । উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সে ব্যাংকার হতে চায়। আলেকজান খাতুন: দক্ষিণ বলদিয়া রাঙ্গালের কুটি গ্রামের দিনমজুর পিতা আ: মজিদ ও সবুরা বেগমের মেয়ে আলেকজান কচাকাটা মহিলা মডেল টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সে হাঁস, মুরগি পালন করে নিজের অর্থে পড়ালেখার খরচ চালায়। উচ্চশিক্ষা নিয়ে সে প্রকৌশলী হতে চায়। রবিউল আউয়াল: পিতা ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে প্রহরীর কাজ করতেন। বড় ছেলে রবিউল আউয়াল ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর এবারে নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমী থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেলেও হতাশা বেড়ে গেছে বখশিরখামার গ্রামের বাবুল হোসেন ও সেলিনা আক্তারের পরিবারে। আসাদুর রহমান: দুধকুমার গ্রাস করেছে সহায় সম্পত্তি। অনেক কষ্টে বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হায়দার আলী সন্তানদের পড়ালেখা করান। ছেলে আসাদুর রহমান ডিএম একাডেমী থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে প্রকৌশলী হতে চায়। আলমগীর হোসেন: সর্বগ্রাসী দুধকুমার সবকিছু গিলে খেলেও পশ্চিম সাপখাওয়া গ্রামের বর্গাচাষী কয়ছার আলী ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে আলমগীরের উদ্যমে ভাটা ফেলতে পারেনি। সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে গ্রামের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে । ভবিষ্যতে সে শিক্ষক হতে চায়।