২৪ দিনে এসেছে ১৩৫ কোটি ডলার

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ২১:২৯

ঈদের আগে বাড়ছে রেমিট্যান্স

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। চলতি মে মাসের ২৪ দিনেই ১৩৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন তারা। মাসের শেষের দিকে আরো রেমিট্যান্স বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাধারণত, পারিবারিক খরচ নির্বাহের জন্য প্রবাসীরা ঈদের আগে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে এ সময়ে মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলো বিভিন্ন অফার ঘোষণা করে এজন্য রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো। রোজা ও ঈদের সময় এ কেনাকাটা করতে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন তারা। সে কারণেই রেমিট্যান্স বাড়ছে। একক মাস হিসেবে মে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে। আর অর্থবছর শেষে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মে মাসের ২৪ দিনে (১ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত) ১৩৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এরমধ্যে ১ থেকে ৩ মে এসেছে ১১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। আর  ৪ থেকে ১০ মে এসেছে ৪৯ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ১১ থেকে ১৭ মে এসেছে ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং ১৮ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়,  মে মাসের প্রথম ২৪ কার্যদিবসে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি ৭৪ লাখ ডলার, বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০১ কোটি ৮১ লাখ ডলার এবং বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত জানুয়ারি মাসে। সে মাসে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। তার আগে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এক হাজার ৩৩০ কোটি ৩০  লাখ (১৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

মে মাসের ২৪ দিনের ১৩৫ কোটি ডলার যোগ করলে চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪৬৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। অর্থবছরের বাকি এক মাস ৬ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে। সে হিসাবে বছর শেষে রেমিট্যান্স ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। যা ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

গত ৭ মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে মূলত রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ— এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

স্থানীয় বাজারে ডলারের উচ্চমূল্য এবং হুন্ডি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছর একই দিন ডলার-টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ১০ পয়সা। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ ভাগ।