মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার

আপডেট : ২১ মে ২০১৪, ২৩:৪৭
চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, নিকট অতীতে সহিংস রাজনীতি থাকা সত্ত্বেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার নয় মাসে ৫৫ ভাগে উন্নীত হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার কৃষি, মত্স্য, নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের উপর ভর করে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ছাড়ালো। অন্যদিকে ছোট-বড় সবধরনের শিল্পেই প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ছিলো, ৫.৭, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ৫.৮ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস ছিলো সাড়ে ৫ শতাংশ। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসের চেয়ে সরকারি হিসাবে প্রবৃদ্ধির আকার বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সূত্র জানায়, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও বাজেটের আগে অর্থবছরের নয় মাসের তথ্যের ভিত্তিতে এ অনুমান হিসাব প্রকাশ করা হলো। চূড়ান্ত হিসাব পেতে সব মিলিয়ে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে গত অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করেছে বিবিএস। গত অর্থবছরে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। অন্যদিকে গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় হয়েছিল ১০৫৪ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৩৬ ডলার। খাতভিত্তিক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের (২০১৩-১৪) কৃষি ও বন খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, গত অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে মত্স্য খাতে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবার তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে উন্নীত হবে। শিক্ষা খাতে গত বছর সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও এ বছর তা ৮ দশমিক ২২ শতাংশে উন্নীত হবে। বিবিএস এর তথ্যে আরো দেখা গেছে, গত অর্থবছরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ১০.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবার তা ৮.৬৮ শতাংশে নেমে যাবে। এর মধ্যে বড় ও মাঝারি শিল্পে প্রবৃদ্ধি এক বছরের ব্যবধানে ১০.৬৫ থেকে ৯.১৬ শতাংশে এবং ক্ষুদ্র শিল্পে ৮.৮১ থেকে ৭.৪০ শতাংশে নেমে যাবে। খনিজ খাত থেকে গত অর্থবছরে ৬.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থবছরে হবে ৫.২২ শতাংশ। চার প্রকল্প অনুমোদন গতকাল একনেকে ৬ হাজার ৩শ ৮৬ কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এগুলো হলো, “পল্লী বিদুত্ বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বর্ধন”, “ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন”, “বিভাগীয় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি নির্মাণ” এবং “উত্তরা লেক উন্নয়ন” প্রকল্প। মোট প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৮শ ৪৩ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ৩শ ১৭ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২শ ২৫ কোটি টাকা। ৪টি প্রকল্পই নতুন প্রকল্প। ১টি প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পল্লী বিদ্যুত্ বিতরণ সিস্টেমের ক্ষমতা বর্ধন প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৩৯টি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি’র বিতরণ নেটওয়ার্কের ক্যাপাসিটি ১৮৪০ এমভিএ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হবে। একইসাথে বিদ্যুত্ বিতরণ সিস্টেমের লস বর্তমান হার হতে ২.৫% হ্রাস করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভির ২৭২৮ কি.মি. নতুন লাইন নির্মাণসহ ৮৮৭ কি.মি. লাইন আপগ্রেডেশন করা। ১১ কেভির ২৬৩৪ কি.মি. নতুন নির্মাণ ও আপগ্রেডেশন কাজ সম্পন্ন হবে। এছাড়া ৩৩/১১ কেভি নতুন ১১০টি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ৩১টি সুইচিং স্টেশন এবং ৩২ সেট রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দু’টি স্থানে কোর নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এছাড়া ৭টি বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেলা শহরে মোট ৬শ ৭০টি বেইজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) নির্মাণসহ ৩শ কি.মি. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।