উড়ন্ত সূচনা চান হাবিবুলরা

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ২১:৩১

বিমানে চড়তে ভীষণ ভয় পান হাবিবুল বাশার সুমন। উড্ডয়ন থেকে অবতরণ পর্যন্ত পুরোটা সময় খুবই অস্বস্তিকর সময় কাটে তার। চলার পথে বিমান মাঝে মাঝে ঝাঁকুনি খায়। তখন আতঙ্ক আরো বাড়ে। তবে উড়তে ভয় পেলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘উড়ন্ত সূচনা’ করবে, এমনটাই আশা করছেন দলের অন্যতম এই নির্বাচক।

শুক্রবার বিমানে ঢাকা থেকে লন্ডন যাত্রায় সুমনের যাত্রাসঙ্গী ছিলেন এই প্রতিবেদকসহ আরো কয়েক সাংবাদিক। ওই ফ্লাইটে আরো ছিলেন সুমনের সাবেক সতীর্থ আশরাফুল। চমকের এখানেই শেষ নয়। খানিক পর দেখা গেল ওই ফ্লাইটে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে রয়েছেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার সানোয়ার ও হাসানুজ্জামান। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টার ওই ভ্রমণে প্রায় পুরোটা সময় ধরেই চললো ক্রিকেট নিয়ে আড্ডাবাজি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডায় যোগ দিচ্ছিলেন সানোয়ার আর হাসানও।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচক হাবিবুল বলছিলেন, ‘ইংল্যান্ডের মাটিতে আমাদের অনেক ভালো স্মৃতি আছে। যার শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মধ্য দিয়ে। সুমন বলেন, ওই সময় অস্ট্রেলিয়া ছিল অপ্রতিরোধ্য এক দলের নাম। এবার আশা করছি, বিশ্বকাপেও আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।’  

সুমন বলেন, ‘আমরা আয়ারল্যান্ডে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছি। কার্ডিফে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের ভুলত্রুটি সংশোধন করার একটা বড় সুযোগ। কারণ মূল পর্বে ভুল করলে আমাদের সুযোগ কমতে থাকবে। প্রথম তিনটা ম্যাচ ভালো করা খুব জরুরি। বিশেষ করে ওভালে দুটি ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য।’

সুমন বলছিলেন, ভালো শুরু করাটা খুব জরুরি বিশ্বকাপে, ‘এবার আমাদের টিমও যেমন সেরা তাই সবাইকে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।  তবে শুরুটা আমাদেরকে ভালো করতে হবে। একেবারে ‘উড়ন্ত সূচনা’ যাকে বলে। শুরুতে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের মতো বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়া যায় তাহলে সেটা আমাদের জন্য একটা বড় ধরনের অর্জন হবে।’

গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হবে কার্ডিফে। ৯ জুনের সেই ম্যাচটি নিয়ে সুমন আশাবাদী। তবে ইংল্যান্ড এখন অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ সেটাও তার মাথায় আছে।

সুমনের সাথে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে যোগ দিলেন আশরাফুল। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলেরই একটা আশা যে এবার আমরা একটা ভালো কিছু করবো। তবে ফরম্যাটের কারণে কাজটা কিছুটা কঠিনও বটে। গ্রুপ টুর্নামেন্ট হলে আমাদের জন্য সহজ হতো। এবার সবাই খুব শক্তিশালী। সবার সাথে সবাইকে খেলতে হবে। এমনকি আফগানিস্তানও গত বিশ্বকাপের চেয়ে এবার অনেক ভালো। অতীতের সব বিশ্বকাপে আমরা তিনটা করে ম্যাচ উইন করেছি। এবার যদি তিনটা ম্যাচ জিততে পারি আমি বলবো যে এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন হবে। তবে সেমিতে উঠতে হলে তিনটা ম্যাচ জিতলেও লাভ হবে না। কমপক্ষে ৫ থেকে ৬টাতে জিততে হবে। একাধিক বড় দলকে হারাতে হবে। কাজটা আমাদের জন্য খুব কঠিন। কারণ এরকম আমরা অতীতে কখনো করিনি।’