সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের। দেশের হকির এক নম্বর খেলোয়াড় ও তারকা ফরোয়ার্ড হওয়ার পরও খেলাটির কিছু নিয়ম কানুন এখন তাকে শিখতে হচ্ছে।
কারণ এশিয়ান ইনডোর হকিতে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। ৬ জন করে খেলোয়াড়কে মাঠে নামতে হবে। এই খেলার নিয়মটা হকির অন্য খেলার মত নয়। কিছুটা ব্যতিক্রম আছে। সব সময় একই নিয়মের মধ্যে খেললে সাধারণত মাথায় সেটাই থেকে যায়। ইনডোর হকিতে যেন সেই ভুল না হয় তার জন্য নিয়মের ব্যতিক্রমগুলোও একটু শিখে নেয়া দরকার।
জিমিরা সেই নিয়মগুলোই রপ্ত করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন দলের কোচ জাহিদ হোসেন রাজু। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে বলছিলেন ইনডোর হকির নিয়মটা একটু ভিন্ন বলেই এটা একটু জানা থাকাও প্রয়োজন। এখন খেলোয়াড়দেরকে নিয়মটা শেখানো হচ্ছে। অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। একটা ভুলের জন্য বড় খেসারত দিতে হবে। তা যেন না হয়।
দুপুর বেলা দেখা গেল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের টার্ফের পেছনে ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তিন দিন আগে যেখানে ফেডারেশনের ইফতার হয়েছিল সেখানে এখনও বাঁশের প্যান্ডেল কার্পেট, আবর্জনা ভরে আছে। লোকজন পরিষ্কারের কাজ করছে। আর অন্যদিকে মাঠের মাঝখানে টার্ফের উপর আলাদা করে আরেকটি মাঠ করা হয়েছে।
সেখানে টার্ফের মাঝখানে মাঠের পার্শ্ব রেখা করা হয়েছে বোর্ডের মতো ঘিরে রেখে। সেটি লোহার পাত দিয়ে তৈরি করা। দুই পাশে গোলপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। চারদিকে বেষ্টনি। এর মধ্যে ইনডোন হকির অনুশীলন হবে। কিভাবে খেলতে হবে সেই নিয়মটা মুখস্থ করানোর মতো করে খেলানো হবে। কখন প্লেয়ার নামবে উঠবে। কিভাবে আক্রমণে যাবে এসবের একটা নিয়ম আছে। সেটাই ধাতস্থ করানো। সেই সঙ্গে ফিটনেস নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে কোচকে। ইনডোর হকির মাঠ সাইজে ছোট হলেও এখানে ফিটনেসের একটা বিষয় রয়েছে। সহকারী কোচ আশিকুজ্জামানকে সঙ্গী করে কোচ রাজু জানিয়েছেন ফিটনেস নিয়ে তারা কাজ করছেন।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইনডোর হকির অনুশীলনের জন্য ভিন্ন মাঠ হয়। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের মাঠে ইনডোর অনুশীলন করানো যায় না। বাংলাদেশের এই ব্যবস্থা নেই বলেই কৃত্রিম উপায়ে ব্যবস্থা। রাজু জানিয়েছেন তারা প্লেয়ারদের নিয়ে বিকেএসপি চলে যাবেন। সেখানে অনুশীলন করবেন। ঈদের পর বিকেএসপি যাওয়ার কথা রয়েছে।
৩৪ খেলোয়াড়কে প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে চূড়ান্ত দলে ঢুকবেন ১২ জন খেলোয়াড়। মূল জাতীয় হকি দলের প্রায় সবাই ইনডোর হকি ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন। জিমি, সারোয়ার, খোরশেদুর রহমান, নিলয়, কৌশিক, মিমো, আশলাফুলরা কালকের প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত, তারপরও কার্পণ্য নেই কোথাও। পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
