অদম্য মেধাবীদের কাছে পরাজিত হয়েছে দরিদ্রতা। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম না নিলেও মেধায় তারা যোগ্যতা দেখিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসএসসি পরীক্ষায় নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা জিপিএ-৫ পেয়েছে। রিপোর্ট ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
রায়পুরা (নরসিংদী)
অন্যের জমিতে খেটে খাওয়া দিনমজুর আব্দুল মোতালিবের মেয়ে শানু আক্তার লাকী দরিদ্রতাকে জয় করে রায়পুরার সেরাজ নগর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসা শাখায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
গোদাগাড়ী (রাজশাহী)
অদম্য মেধাবী জান্নাতুল ফেরদৌস এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার স্কুলে সেই একমাত্র এই কৃতিত্বের অধিকারিণী। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। বাবা নিজাম উদ্দীন রিকশাচালক, মা তাজমিরা বেগম গৃহিণী। জান্নাতুলের মা তাজমিরা বলেন, ‘সীমাহীন দরিদ্রতার মাঝেও মেয়েকে সব সময় পড়া লেখায় উত্সাহ দিয়েছি। মেয়ে এখন মুখ উজ্জ্বল করেছে। সেই আমার ভাঙা ঘরে ‘চাঁদের আলো’।’
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)
বৃদ্ধ বাবার সাথে রিকশা চালিয়ে ছেলে মোস্তফা এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মঠবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে সদর ইউনিয়নের উত্তর মিঠাখালী গ্রামের হতদরিদ্র রিকশাচালক রুহুল আমিন ও মা মমতাজ বেগমের বড় ছেলে। অভাবের সংসারে মোস্তফা বাবার সাথে রিকশা চালিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে লেখাপড়া করে এ সাফল্য বয়ে এনেছেন। তার মা অন্যের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালিয়ে ছেলের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করতো।
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
নাচোল উপজেলার মাক্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মোঃ হাসিবুল হাসান শান্ত। পিতা উপজেলার মাক্তাপুর গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর আহমদুল্লাহ হেনা ২ সন্তানের জনক। টানাটানির সংসারে দিনমজুরের কাজ করে সামান্য কিছু আয় করে কোন রকমে সংসার চলে তাঁর। শান্ত লেখাপড়া করে চিকিত্সক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।
কাঠালিয়া (ঝালকাঠি)
অভাবী সংসারে ঠিকমতো দু’বেলা ভাত জোটেনি। জোটেনি ভালো পোশাকও জমিজমা না থাকায় আমুয়া বন্দরের কাঠের ঘরে ভাড়া বাসায় বসবাস। পিতা হতদরিদ্র ভ্যানচালক মোঃ শহীদ আকন। এমন একটি অভাবী সংসারের মেয়ে লিজা আক্তার (১৫)। কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া বন্দর আমির মোল্ল¬া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তার এ সাফল্যে পরিবারটির মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দ নেমে এলেও লিজার ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তায় অভাবী বাবা-মা। লিজা ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চায়।
বোরহানউদ্দিন (ভোলা)
বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া নুরুল কারিম মানুষ গড়ার কারিগর হতে চায়। বাবা মারা যাওয়ার পরে অভাবের সংসার তার মা আগলে রেখেছেন।
নুরুল কারিমের বাড়ি উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ডের ঈদারাহ মূল কেন্দ্র মাদরাসার দক্ষিণ পাশে।বাড়ির ওই জমিটুকুও এক ব্যক্তির দানকৃত। নুরুল কারিম জানান, একটি পুরানো সাইকেলে চেপে বাড়ি থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদরাসায় সে নিয়মিত ক্লাশ করতো। লেখাপড়ার পাশাপাশি সে বিভিন্ন কাজ করতো। তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন সে শিক্ষক হয়ে আলোকিত মানুষ গড়বে।
