জাপানে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গা ব্যারেজসহ আটটি বড় প্রকল্পে সহায়তা চাইবেন। বড় অবকাঠামো প্রকল্প ছাড়াও মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন আর্থিক সহায়তা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাপানী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গতকাল শনিবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, সচিব (দ্বিপাক্ষিক) মোস্তফা কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপান স্বাধীনতার পর থেকেই অন্যতম প্রধান অংশীদারের ভূমিকা পালন করছে। ঢাকা ও টোকিও’র সম্পর্ক, পারস্পরিক সমঝোতা, উষ্ণ বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর প্রথম জাপানেই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে একটি নতুন সার্বিক অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কে উন্নীত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। আটটি বড় প্রকল্পে জাপানের অর্থায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রী লিনজো আবের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ, যমুনা নদীর নীচ দিয়ে বহুমুখী টানেল নির্মাণ, নতুন একটি পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু সেতুতে নতুন রেল সেতু নির্মাণ, রাজধানীর চারপাশে নদীগুলোর পুনরুজ্জীবন, ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণ, কালনায় সেতুসহ মাওয়া থেকে যশোর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রভৃতি। এছাড়া ওভারসীজ ডেভেলপমেন্ট এসিস্ট্যান্স (ওডিএ) এর আওতায় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের সহায়তার ব্যাপারেও আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনা জাপানী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুত্, জ্বালানি, বস্ত্র, ওষুধ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানানো হবে। ঢাকায় একটি শান্তি প্রতিষ্ঠা কেন্দ্র স্থাপনে জাপানী সহায়তা চাওয়া হবে। জাপানের ওয়াসেঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের সম্রাটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী ও কয়েকটি জাপানী প্রতিষ্ঠানের প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন।
এর আগে ১৯৯৭ ও ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করেন। এবারের সফরে ৪৫ জন ব্যবসায়ীসহ ১০৯ জন সফরসঙ্গী থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৭৬টি জাপানী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। ২০০৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬১। জাপানের বিনিয়োগ এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার।
নরেন্দ্র মোদীর সফর সম্পর্কে ঘোষণা নেই
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে জানান, এ সফর সম্পর্কে কোন ঘোষণা বা তথ্য নেই। এখনও নরেন্দ্র মোদী শপথ নেননি। আমরা চাই তিনি বাংলাদেশ সফরে আসুক। কিন্তু এখনও তিনি দায়িত্ব নেননি।
