গোদাগাড়ীর আলিপুর গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রিজ সংস্কার

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২১:২২
লাঙলের হাল ধরা হাতে উঠে এসেছে হেডমিস্ত্রির কুরনি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হয়েছেন নির্মাণ শ্রমিক। আর এলাকার যুবকেরা মিস্ত্রির সহযোগী। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা আবার চাঁদাও দিয়েছেন। আর কেউ দিয়েছেন সিমেন্ট, কেউবা বালু। এভাবেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পূর্ব আলীপুর গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার হচ্ছে ভেঙে যাওয়া একটি ব্রিজের। স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬৩ সালের দিকে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও একবারও সংস্কার করা হয়নি। এই সময়ে এটির অন্তত ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দু’বছর আগে পাড় ভেঙে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে আলীপুর, নিমতলা, খারিজাগাতি ও হরিণবিষ্কাসহ পাঁচ গ্রামে কয়েক হাজার কৃষককে পড়তে হয় চরম বিপাকে। কৃষিপণ্য পরিবহনে এসব গ্রামের কৃষকদের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে গ্রামে প্রবেশ করতে হচ্ছিল। সমপ্রতি এলাকার বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নিলেন আর কারও মুখাপেক্ষী নয়। তারা নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করবেন। যেই কথা, সেই কাজ। ব্রিজ সংস্কারের আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হলো পাঁচ গ্রামের ৩০ জন সামর্থ্যবানদের কাছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গোদাগাড়ীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিয়াকত আলী, আব্দুর রহমান মাস্টার, গোলাম মোস্তফা, মজিবর রহমান ও আলহাজ্ব আবুল কাশেমসহ ৩০ জন দিয়েছেন মাথাপিছু এক হাজার টাকা। রাজাবাড়িহাট ডিগ্রি কলেজের প্রফেসর বুলবুল আহমেদ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব বালু। এখন সংস্কার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। পূর্ব আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, গত শুক্রবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘এলাকার লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে। আসলে নিজেদের কাজ নিজেরা করার মজাই আলাদা।