বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় সাতজন খুন হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
গোপালগঞ্জে ছাত্র খুন
গোপালগঞ্জে সদর উপজেলার আমুরিয়া গ্রাম থেকে গতকাল রবিবার মেজবাহ চৌধুরী (২৪) নামে এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক ১ম বর্ষের ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, মেজবাহ চৌধুরীদের সাথে একই গ্রামের আকবর সিকদারের ৬৯ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। ২০০৮ সালের ২৯ জুন আকবর সিকদারের ছেলে ওলিউল্লাহ সিকদার মেজবাহ চৌধুরীদের গোয়ালঘরে সর্টগান রেখে পুলিশে খবর দিয়ে মেজবাহ চৌধুরীকে গ্রেফতারের অনুরোধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় ওলিউল্লাহ জড়িত সন্দেহে ওলিউল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে দু’পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সেই সূত্র ধরেই মেজবাহকে খুন করা হতে পারে বলে স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন। নিহতের মা তসলিমা বেগম বলেন, বুধবার মাঠলা গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে সানজিদাকে আমার ছেলে বিয়ে করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে মেজবাহ আর ফিরে আসেনি। রবিবার সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্বৃত্তরা তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার পর ডান চোখ তুলে নিয়ে গেছে। বাম চোখও উপড়ে ফেলেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অস্ত্র সংক্রান্ত ঘটনায় ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
দেলদুয়ারে ইমাম খুন
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমি সংক্রান্ত বিরোধে গত শনিবার রাতে সংঘর্ষে আব্দুর রহমান (৫০) নামে মসজিদের এক ইমাম খুন হয়েছেন। খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী গতকাল রবিবার উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে। উপজেলা সদরে মার্কেটের জায়গা নিয়ে দেলদুয়ার উত্তর পাড়ার মওলানা আব্দুর রহমানের পরিবারের সাথে মাদারকোল গ্রামের মোনতাজ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন উভয়পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে মওলানা আব্দুর রহমানের মাথায় আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তিনি মারা যান। দেলদুয়ার থানার ওসি চাঁন মিয়া বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
পুঠিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
রাজশাহীর উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের আখক্ষেত থেকে গত শনিবার রাতে অজ্ঞাত পরিচয় (৫০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের গায়ের রং শ্যামলা তার ঘারে আঘাতের চিহ্নসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ফোসকা ছিল। মুখমণ্ডল ছিল ঝলসানো। চেকলুঙ্গি দিয়ে পা বাঁধা ছিল।
বরিশালে ছেলের হাতে পিতা খুন
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চরফতেপুর গ্রামে গত শনিবার রাতে মোসলেম ফকির (৩৫) নামে এক ব্যক্তি ছেলের হাতে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক পুত্র ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও স্থানী সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে গত শনিবার রাতে মোসলেম ফকিরকে পুত্র ফারুক হোসেন লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মোসলেম ফকিরকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত বলে জানায়।
কিশোরগঞ্জে দফাদার খুন
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ধাইজান পাড়া গ্রামে আহত দফাদার তালেব উদ্দিন (৪৮) গত রবিবার চিকিত্সাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে মারা গেছেন। পুটিমারি ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটন জানান, শুক্রবার গভীর রাতে কয়েকজন মুখোশধারী ঘরে ঢুকে তালেব উদ্দিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় কোপায়। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিত্কারে প্রতিবেশী লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। প্রথমে কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলম জানান, দফাদার তালেবের মৃত্যুর কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
কালিয়াকৈরে শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার শিয়ালপাড়া এলাকা থেকে গতকাল রবিবার সকালে মো. হূদয় হোসেন (৮) নামে এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত হূদয়ের বাবা এলাকায় রাজ মিস্ত্রি এবং মা সাবানা বেগম স্থানীয় এক পোশাক কারখানায় কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন হূদয়ের কাছে তিন বছরের শিশু কন্যা মাসুদা আক্তারকে রেখে মা-বাবা যার যার কাজে চলে যান। সকাল ৯টায় হূদয়ের ছোট বোনের কান্না শুনে পাশের ঘরের এক ভাড়াটে ঘরের ভেতরে গিয়ে গলায় ওড়না প্যাচানো ও ধর্ণার সাথে বাঁধা অবস্থায় খাটে পা ঠেকানো হূদয়ের লাশ দেখতে পান।
এলাকাবাসী জানান, লাশটি যেভাবে ঝুলে ছিল তাতে মনে হয় কেউ হূদয়কে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ধর্ণার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সরাইলে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর আতকা বাজার এলাকায় গতকাল রবিবার দুপুরে রুজিনা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে ঘিরে রুজিনার শ্বশুর বাড়ি ও বাবার বাড়ির লোকজনের রয়েছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। রুজিনার শ্বশুর লিবু মিয়া জানান, রুজিনাকে নিতে এসেছিলেন তার পিতা। ননদ তাকে যেতে দেয়নি। এতে অভিমান করে রুজিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রুজিনার বাবা-মা জানায়, এ বিয়েতে রুজিনার শাশুড়ি সুফিয়া বেগমের মত ছিল না। তাই বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদ পাবিয়া রুজিনার উপর অত্যাচার নির্যাতন করছে। রুজিনার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করে পাখার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। সরাইল থানার ওসি মো. আলী আরশাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
