রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চার ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০০৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। অপর দিকে বাঘা পৌর সভায় নির্বাচন হয়েছে ২০০৬ সালের ২৯ মার্চ। পরবর্তীতে বাঘা পৌর সভার সীমানা বাড়ানোর অজুহাতে আজ অবধি ওই ইউনিয়ন কিংবা পৌর সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। উপরন্তু নির্বাচন সংক্রান্তে প্রজ্ঞাপন এলেও তা প্রতিহত করতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কতিপয় চেয়ারম্যান।
২০১১ সালে বাঘা পৌর সভার বর্তমান মেয়র আক্কাস আলী পৌর সভার সীমানা বাড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলার মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া, বাজুবাঘা ও গড়গড়ি- এই চার ইউনিয়নের ৫টি গ্রামকে নতুন করে পৌর সভায় অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। পরবর্তী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত যখন প্রায় চূড়ান্ত তখন সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা এর প্রতিবাদে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে তা স্থগিত করান। এই স্থগিত আদেশ পাবার পর পৌর মেয়র আক্কাস আলী আদালতের শরণাপন্ন হন। এর ফলে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে মেয়র আক্কাসের রিট উচ্চ আদালতে বাতিল হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ গত বছরের ১৭ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজশাহী জেলার বাঘা পৌর সভার সীমানা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিত অচিরে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে বাঘা পৌর সভার বিদ্যমান এলাকা এবং সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে পৌর সভার ওয়ার্ড নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিভাগে তথ্য প্রেরণ করা হউক।
প্রজ্ঞাপন জারির পর গড়গড়ি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু তাদের পক্ষে চলতি বছরের ১৪ মার্চ জনৈক বিচ্ছাদ আলী ও আবু বক্কর নামের দুই দিনমজুর ব্যক্তিকে ব্যবহার করে একই তারিখ পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করান।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা শাকিলা দিল হাসিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে বিদ্যমান এলাকাসমূহ এবং সম্প্রসারিত এলাকা নিয়ে ওয়ার্ড গঠন চূড়ান্ত করা হলেও আদালত থেকে সম্প্রসারিত এলাকার উপর স্টে-অর্ডার না হয়ে শুধু রুল ইস্যু হওয়ায় জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশ পেলে এ বিষয়ে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
