‘নজরুলের রচনায়ও প্রবল সমসাময়িকতা খুঁজে পাই’

আপডেট : ২৬ মে ২০১৯, ২২:০৫

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, প্রত্যেক বড় সাহিত্যিকের রচনার মধ্যে চিরন্তনতা এবং সমকালীনতা— এই দুই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। নজরুলের রচনায়ও আমরা প্রবল সমসাময়িকতা এবং চিরকালীনতা খুঁজে পাই। তাঁর কালজয়ী রচনায় যেসব মানবিক সমস্যার কথা উঠে এসেছে সে সবের অনেক কিছু এখনও বিরাজমান থাকায় নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা আরো বিশেষভাবে অনুভূত হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল বাংলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল বিষয়ক একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন ডালিয়া আহমেদ এবং নজরুলগীতি পরিবেশন করেন শিল্পী ইয়াসমিন মুশতারী। নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা কখনও ফুরোবার নয়। কাল যতই অতিক্রান্ত হচ্ছে তাঁর কালোত্তর প্রাসঙ্গিকতা ততই নিবিড় করে অনুভূত হচ্ছে। আজকের সাম্প্রদায়িক চিন্তায় কলুষিত বিশ্বে চিরপ্রাসঙ্গিক, অসাম্প্রদায়িক নজরুলের অগ্রন্থিত লেখা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁর রচনাবলি পূর্ণাঙ্গ করার যেমন জরুরি তার চেয়ে বেশি জরুরি নজরুল-চিন্তার আলোকে আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্বের মানবিক রূপান্তর সম্পন্ন করা।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, বাংলা একাডেমির সঙ্গে নজরুল জড়িয়ে আছেন নিবিড় একাত্মতায়। আমরা শিগগিরই নজরুল স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসের দোতলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নজরুল স্মৃতিকক্ষ পুনরায় চালু করতে যাচ্ছি। এছাড়া একাডেমি কর্তৃক বিশিষ্ট গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রণীত নজরুলের কয়েক খণ্ডের প্রামাণ্য জীবনী প্রকাশিত হবে।