ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার কোন বিকল্প নেই :ড্যান মজীনা

আপডেট : ২৫ মে ২০১৪, ২৩:১৮
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ভারত ও চীনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ভারতের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। চীনের সঙ্গে খুবই গঠনমূলক সম্পর্ক রাখা দরকার। গতকাল রবিবার সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত ‘কান্ট্রি লেকচার’ অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। বিস-এর বোর্ড অব গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, গবেষক, ঊর্ধ্বতন সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কোনটা ভাল বা উত্তম সেটাই বাংলাদেশের ভাবা উচিত। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করলে সবাই উপকৃত হবে। বাংলাদেশের মানচিত্র দেখলে বুঝা যাবে ভারতের সাথে সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ঘুরে বুঝেছি ব্যবসা-বাণিজ্যে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে উভয় পক্ষ লাভবান হবে। ড্যান মজীনা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিষয়ে বলেন, আমাদের অংশীদারিত্ব এখন যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী, ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণশীল। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আমাদের গভীর কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। আমার উপর দায়িত্ব ছিল দু’দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও রয়েছে। মানবাধিকার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, গুম এসব ইস্যুতে আমাদের অবস্থান ও উদ্বেগের কথা বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা আছে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে ড্যান মজীনা বলেন, নির্বাচনের পর একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্বাচন সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছে। সেই অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে দেখতে চাই। জিএসপি প্রসঙ্গে ড্যান মজীনা বলেন, আসলে জিএসপি কোন সমস্যা নয়। মূল কথা হলো বাংলাদেশে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডীর মতো আর কোন ঘটনা ঘটবে না। তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের মতো কোন পুনরাবৃত্তি হবে না। গার্মেন্টস সেক্টরের মানোন্নয়নে অনেক কাজ হয়েছে। নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে। ‘সোনার বাংলা গড়তে বাঙালি কাজ করছে’ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বিকাল ৫টায় বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়ামে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ড্যান মজীনা বলেছেন, সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সব মানুষের সমানভাবে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া যেখানেই আমি গিয়েছি, দেখতে পেয়েছি সোনার বাংলা গড়ার জন্য সব বাঙালি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যত্। মজীনা শিল্পপতি জহুরুল ইসলামকে ‘বাংলাদেশের মডেল’ হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেন, এখানে এসে আমি মুগ্ধ হয়েছি। কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সন্ধ্যায় উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত্ রায়ের পৈতৃক বাড়ি কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামে যান ড্যান মজীনা। তিনি সেখানে রায় বাবুদের পুরোনো জমিদার বাড়ি শান বাঁধানো ঘাট ও পর্যটন কর্তৃপক্ষের বাংলো পরিদর্শন করেন।