এই সময়ে রোদের তেজটা একটু বেশিই। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জীবন। তাই সবাই খোঁজে স্বস্তি। বিশেষ করে পায়ের স্বস্তির জন্য চাই নান্দনিক ডিজাইনের স্যান্ডেল। যা পায়ে দিয়ে আপনি আরামের সাথে বাইরে বের হতে পারেন। সেই স্বস্তির জন্যই নান্দনিক ডিজাইনের সামার স্যান্ডেল নিয়ে এ বিশেষ আয়োজন। লিখেছেন নাজনীন শিমু
একটা সময় ছিল ছেলেরা ফ্যাশনে স্যান্ডেলকে বেশি প্রাধান্য দিত। কিন্তু মাঝে স্যান্ডেলের ব্যবহার তেমন ছিল না। তখন ছুটির দিনে, উত্সবের সময় স্যান্ডেল বেশি পরত ছেলেরা। ইদানীং আবারও স্যান্ডেলের ব্যবহার বাড়ছে। কেননা এই গরমে স্বস্তিতে বাইরে বের হওয়ার জন্য চাই একজোড়া মনের মতো স্যান্ডেল। তরুণরা এখন নানা রঙের জিন্স ও টিশার্টের সঙ্গে মানিয়ে স্যান্ডেল পরছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নানা ডিজাইনের কালারফুল স্যান্ডেল। তাই তো এই গরমে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে স্বস্তির জন্য নান্দনিক ডিজাইনের স্যান্ডেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহাইমেন ইসলামের মতে, ‘এই গরমে কিছুটা খোলামেলা চামড়ার স্যান্ডেল পরতে বেশ আরামদায়ক। আর তা যদি হয় ফ্যাশনেবল তো কথাই নেই।’ স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দিলশাদ ইসলাম বলেন, ‘জিন্স আর ফতুয়া বা টিশার্টের সঙ্গে অনায়াসে ব্যবহার করা যায় স্যান্ডেল। এই গরমে জুতার চেয়ে স্যান্ডেলই পরতে আমার ভালো লাগে। আর এতে স্বস্তিও পাই।’ রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটে ঘুরে দেখা গেছে, নান্দনিক ডিজাইনের ও বাহারি রঙের সামার স্যান্ডেল। এসব স্যান্ডেলে ব্যবহূত মোটিফে রয়েছে বৈচিত্র্য এবং নানা রঙের ব্যবহার। গতানুগতিক কালো, ঘিয়া, চকলেট ইত্যাদি রং তো আছেই। কিছু স্যান্ডেল আবার দারুণ বর্ণিল। বেগুনি, সবুজ, লাল, হলুদ সব রঙই আছে। বাদামি সোলের স্যান্ডেলে বাহারি সব রঙের স্ট্র্যাপড এই ধরনটাও বেশ দেখা যাচ্ছে ইদানীং। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড তরুণদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে স্যান্ডেলের ডিজাইন করছে।
র ক ম ফে র
স্যান্ডেলের রকমফের বলে শেষ করা যাবে না। তবু মোটাদাগের বৈশিষ্ট্য ধরে কিছু কথা বলা যায়। যেমন—পায়ের গোড়ালিতে লেস পেঁচানো স্যান্ডেল, চিকন স্ট্রিপ দেওয়া গ্ল্যাডিয়েটর স্যান্ডেল, যার ফিতা গোড়ালির একটু ওপরে। পেছন দিকে চেন দেওয়া স্যান্ডেলগুলোও ব্যতিক্রম। আছে স্ট্রিপের ব্যবহারে উঁচু হিলের স্যান্ডেল, বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর ছাপে তৈরি নকশা বা অ্যানিমেল প্রিন্টের স্যান্ডেল, দুই ফিতার স্যান্ডেল, রেক্সিনের ওপর পাথর অথবা বড় ধরনের ধাতব বোতাম বসানো, চামড়া, সিল্ক, সুতি বা ধুপিয়ান কাপড়ে তৈরি স্যান্ডেল, জরি, চুমকি, কুন্দনের কাজ করা স্যান্ডেল, বেণির মতো পাকানো ফিতার স্যান্ডেল। এই হচ্ছে মোটামুটি স্যান্ডেলের জনপ্রিয় রূপ।
যে খা নে পা বে ন
আপনার পছন্দসই স্যান্ডেল ও জুতা কিনতে ঘুরে আসতে পারেন বাটা, এপেক্স, জেনিস, বেএম্পোরিয়াম, জিলস, লোটোসহ নানা জনপ্রিয় জুতার আউটলেটগুলো থেকে। এছাড়া এলিফ্যান্ট রোডে লেদার, আর্টিফিশিয়াল লেদারসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের তৈরি দেশি-বিদেশি স্যান্ডেল আছে এখানে। হিলের ক্ষেত্রে চার ইঞ্চি পর্যন্ত আছে। নেটের কাপড়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের কাজ করা স্যান্ডেলও বেশ পাওয়া যাচ্ছে। হালকা কাজের অরিজিনাল ও আর্টিফিশিয়াল লেদারের স্যান্ডেলগুলোর দাম ৩৫০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের স্টোনের কাজ করা অল্প হিলের স্যান্ডেলগুলোর দাম ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং চেন দেওয়া জুতাগুলোর দাম দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত।
এই আয়োজনের মডেল হয়েছেন শোভা
স্যান্ডেল ও জুতা বে-এম্পোরিয়াম
মেকআপ ভুবন
ছবি তাহের মানিক
