ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ধনকুবের ও চকোলেট কিং খ্যাত পেট্রো পোরোশেনকো। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়া পোরোশেনকো দেশে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। গত রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউক্রেনের জনগণ নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে বেছে নেয় ইইউপন্থি পোরোশেনকোকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয় গতকাল সোমবার। তার আগে বুথ ফেরত জরিপে দেখা গেছে, পোরোশেনকো প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন। ১২ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তিমোশোঙ্কো। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে আগামী মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ে ভোট গ্রহণ করতে হতো। ক্রিমিয়া সংকটের কারণে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ১৯৯১ সালে ইউক্রেনের স্বাধীনতার পর দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার রাতেই নিজের জয় দাবি করে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পোরোশেনকো বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসাবে তিনি প্রথমেই পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলকে কিয়েভ কখনো স্বীকৃতি দেবে না বলেও জানান তিনি। পোরোশেনকো আরো বলেন, ‘প্রথমেই আমার চূড়ান্ত কাজ হবে ইউক্রেনে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানো এবং শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমি নিশ্চিত আমাদের কাজ দ্রুত ফল বয়ে আনবে।’ এদিকে রুশপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেশির ভাগ কেন্দ্রেই ভোট নিতে দেয়নি। বিশেষ করে দোনেস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে ভোট গ্রহণ প্রায় ভণ্ডুল করে দিয়েছে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এসব অঞ্চলের বেশির ভাগ কেন্দ্র খুলতেই দেয়া হয়নি। কোনো কোনো কেন্দ্র খুললেও নির্বাচনী সরঞ্জাম তছনছ করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানী কিয়েভে ভোটার উপস্থিতি ছিল মোটামুটি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা না গেলেও বুথের ভেতরে ভোটার ছিল সবসময়ই। কোনো কোনো ভোটার স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ভোট দিতে যান।
